• আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাবনার মোবারকপুর গ্যাস ফিল্ড কুপ খনন কাজ শেষ

১১:৩৭ অপরাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ২৯, ২০১৭ দেশের খবর, রাজশাহী

eq


পাবনা প্রতিনিধিঃ

উত্তরাঞ্চলের একমাত্র গ্যাস ফিল্ড পাবনার সুজানগর উপজেলার মোবারকপুর গ্যাসফিল্ড প্রকল্পের কূপ খননে ড্রিলিং এর কাজ শেষ হয়েছে। উত্তেলিত গ্যাস উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বিপুল পরিমান গ্যাস এমনটিই আশা বাপেক্স বিশেষজ্ঞদের।

সূত্র মতে, ৪৬৪২ ফুট গভীরে গ্যাসের যে মজুদ রয়েছে তাতে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের সর্ববৃৃহৎ তেল/গ্যাস খনিজ প্রকল্প। গ্যাস উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের কাজে ধীরগতি ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। গ্যাস ফিল্ড খননের প্রাককলিক কার্যক্রমের জন্য রিগ মবিলাইজেশনে ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা ড্রিলিং মেশিন ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলার পায়তারা করছেন একটি চক্র। নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাপেক্সের একটি সূত্র জানিয়েছে ৪৬৪২ ফুট গভীরে খনন কাজের চুরান্তে পৌছে টেস্টিং এর পর শত ভাগ সম্ভাবনার দার উন্মোচিত হয়।

কিন্তু কোন অদৃশ্য কারনে ৪৬৪২ ফুট গভীরে শীল করে ৪৪২ ফুট উপরে এসে অর্র্থাৎ ৪২০০ ফুট গভীরে ফায়ারিং করে টেষ্টিং চালায়। এতে গ্যাসের প্রেসার কম থাকায় তারা এই প্রকল্পটি বানিজ্যিক ভিত্তিতে লাভ জনক হবে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য অন্য কোন বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সংঙ্গে চুক্তি বদ্ধ হওয়ার গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এতে সরকারের শত শত কোটি টাকা গচ্ছা দেয়ার পরেও ব্যস্তে যেতে বসেছে সম্ভাবনাময় মোবারকপুর তেল/গ্যাস ক্ষেত্রের এই প্রকল্প। ইতোমধ্যে ছয় কোটি টাকা ব্যায়ে চিনা বিশেষজ্ঞ দল আঠারো দিন প্রকল্প এলাকায় থেকে পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর প্রকল্পের শত ভাগ সম্ভাব্যতার কথা জানিয়ে ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এটিই প্রথম উচ্চ মাত্রায় চাপ সৃষ্টিকারী গ্যাস ক্ষেত্র যা আর অন্য কোথাও নেই।

বিশেষজ্ঞদের পরিক্ষার সময় গ্যাস পাইপের মূখে আগুন দেয়া হলে তা পচিশ থেকে ত্রিশ ফুট উচ্চতায় জ্বলতে দেখা যায় এবং রিগ ফ্লোরসহ পুরো প্রকল্প এলাকায় ভূ-কম্পন শুরু হয়। অথচ বিশেষজ্ঞ দল চলে যাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় পাইপের মূখে আগুন দেয়া হলে তিন থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। গ্যাসের চাপ কম এমন যুক্তি দেখিয়ে প্রকল্পের কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার পায়তারা করছে বলে এ্কটি অসমর্থিত সূত্র জানায়।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিকে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন তথকালীন পেট্রোবংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর। এপ্রিলের শেষ নাগাদ গ্যাসকূপ খনন শেষে আগামী ৭ মাসের মধ্যেই কূপটিতে তেল-গ্যাসের সম্ভাবনার পরীক্ষণ সম্পন্ন করা যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছিলেন ততকালিন প্রজেক্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। পাবনার সুজানগর উপজেলার মোবারকপুর তেল/গ্যাস প্রকল্পের কাজটি পরিক্ষা মুলক শুরু করা হয় এক কিলোমিটার উত্তরে পার্শবর্তি উপজেলার নিভৃত পল্লী ‘পাগলা’ গ্রামে পাবনাÑঢাকা মহাসড়কের উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুরু হয় মোবারকপুর গ্যাসফিল্ড প্রকল্পের কাজ।

২০১৪ সালের এপ্রিলের মধ্যেই গ্যাস ফিল্ডের কূপ খননের জন্য রিগ মবিলাইজেশনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইনস্টল করা সম্ভব হয়। এপ্রিলের শেষ নাগাদ প্রায় ১৫ হাজার ফুট গভীরতা সম্পন্ন একটি কূপ খনন করা হবে বলে জানানো হয়। কাজটি সম্পন্ন করতে ৪০ জন কর্মকর্তা ও ১৫০ জন শ্রমিকের একটি কর্মীবাহিনী কাজ করবে বলে গ্যাস ফিল্ডের শুরুর দিকে প্রজেক্ট ডিরেক্টর আতাউর রহমান জানান, “মোবারকপুর গ্যাস ফিল্ডটির কূপ খনন ও পরীক্ষণের জন্য প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগবে। এরপর কূপটি পরীক্ষা করে জানা যাবে এখানে তেল-গ্যাসের মজুদ আছে-কিনা। তবে আমরা আশা নিয়েই কাজ করছি।

আর সরকারের অর্থায়নেই এই কাজটি হচ্ছে।” এখান থেকে উত্তেলিত গ্যাস জাতীয় পর্যায়ে ‘মেইন গ্রীডে’ যোগ হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১টি কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলনের ব্যাপারটি সার্বিক পরীক্ষণের পর জানা যাবে যে, গ্যাস ফিল্ডটিতে গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পটি আদৌ চালু হবে কি-না। তবে গ্যাসের পরিমাণ অনুপাতে প্রকল্প লাভজনক হলে অবশ্যই সরকার গ্যাসফিল্ডটি স্থাপন ও পরিচালনা করবেন। গ্যাসের সম্ভাবনা ও চাহিদা অনুযায়ী ধীরে ধীরে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে সরিয়ে নতুন নতুন গ্যাস কূপ খনন করা হবে বলে জানান তথকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এবিষয়ে ড্রিলিং ইনচার্জ ডিজিএম শহিদুল্লার সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যান এবং সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার অনুমতি নেই বলে জানান তিনি। নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত জিএম টেকনিক্যাল তোফায়েল আহমেদের সাথে কথা বলতে চইলে টেলিফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।