• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবন যুদ্ধে ভয়ংকর পরাজিত অসহায় এই মায়ের সকরুন আর্তনাদ কী ফিরিয়ে দেবেনা তার সন্তানকে ?


সময়ের কণ্ঠস্বর ফিচার ডেস্ক-

সন্তান জন্মের পরই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় মাদকাসক্ত স্বামী । স্বামী পালিয়ে যাবার পর  মাথাগুঁজার ঠাঁইটুকুও হারায়।হাজারো কস্টে আর প্রতিকুলতায়  থেকে সন্তানের নাম অনেক আশা করেই আশামনি রেখেছিলেন মা বিলকিস বেগম (২৫ )।  কিন্তু জীবনযুদ্ধের নির্মমতা আর দারিদ্র্যের  কষাঘাতে অবশেষে পরাজিত হয়ে নিজের দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তান আশামনিকে  মাত্র ৫০০ টাকায়  বিক্রি করেছিলেন ঐ গর্ভধারিনী মা।

গত ২০ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

তবে অভাবের তাড়নায় নিজের নারী ছেড়া সন্তানকে বিক্রি করার পর থেকেই  মানসিকভাবে  ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন জন্মদাত্রী এই  মা বিলকিছ। সন্তানের জন্য দিশেহারা বিলকিছ বেগম বিলাপ করে কাঁদছেন আর বলছেন, ‘আমার সন্তানকে একনজর না দেখলে আমি আত্মহত্যা করবো। আমি মরে যাবো। আমি সন্তানকে নিতে চাই না- একটি বার আমার যাদুর মুখটি দেখতে চাই।’

গত ২০জানুয়ারি রাতে সাদা কাগজে সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার আনুষ্ঠিকতা সারলেও সন্তান হস্তান্তরের পর থেকেই সন্তানের মুখটি একনজর দেখার জন্য ক্রেতা ক্রেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে আর্তনাদ করে যাচ্ছেন বিলকিছ বেগম।

এদিকে, সন্তান বিক্রির মধ্যস্ততাকারী  রুহুল আমিন কিছুতেই দেখা করতে দিচ্ছেননা এমনকি তার আত্মীয়ের ঠিকানাও দিচ্ছেননা বিলকিসকে।

শিশুসন্তান আশামনির মা বিলকিছ বেগমব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের দূর্গাপুর গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী এবং সরাইল উপজেলার পানিশ্বর গ্রামের দিল্লুর আলীর মেয়ে।

সূত্র জানায়, মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার নিঃসন্তান আত্মীয়ের জন্য কিনে নেন শিশু আশামনিকে।

somoyerkonthosor-special-ne

গতকাল রোববার অসহায় এই মা’কে কাদতে দেখে স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করলে ঐ মা জানান, আমি সহায়-সম্বলহীন মানুষ। এজন্য সন্তানকে নিয়ে আখাউড়ায় চলে আসি কাজের সন্ধানে। কোনো কাজ না পেয়ে অভাবের কারণে অসহায় হয়ে এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সন্তানহীন এক দম্পতির জন্য নারায়নপুর গ্রামের মো. রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তির কাছে আমার সন্তানকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে তুলে দেই।’

বিলকিছ বেগম আরো বলেন, ‘সন্তানকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার পর আমি এক রাতও ঘুমাতে পারিনি, কোনো কাজেও মন বসছে না। এ জন্য ৯দিন যাবৎ আখাউড়ায় যে বাড়িতে (রুহুল আমিন) সন্তানকে দিয়েছিলাম, ওখানে গিয়ে বসে কাঁদতে থাকি। সন্তান তুলে দেয়ার সময় ওদের সঙ্গে যদিও আমার শর্ত ছিল- মন চাইলেই সন্তানের মুখ আমি দেখতে পারবো। কিন্তু ওরা এখন আমাকে সন্তানের দেখা না দিয়ে উল্টো এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে করনীয় কী ? জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ অভাবের তাড়নায় নাকি পারিবারিক সমস্যার কারণে সন্তান বিক্রি করেছে বিষয়টি সঠিক জানি না আমরা । খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

◷ ৮:৪১ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, জানুয়ারী ৩০, ২০১৭ আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট