চোখ উঠা রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা!

১০:২৭ পূর্বাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৩০, ২০১৭ আপনার স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, স্পট লাইট

চোখ উঠা

ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর। কনজাঙ্কটিভাইটিস বা চোখ উঠা হচ্ছে চোখের এক ধরনের প্রদাহ যাতে চোখ লাল, চোখের পাতা ফোলা, জ্বালা-পোড়ার অনুভূতি হয় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে যেমন শীতের শুরুতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বেড়ে যায়। তাই এ সময় চোখ উঠা রোগ হওয়ার সম্ভাবণা বেড়ে যায়।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ছাড়াও অনেক কারণেই চোখ উঠা রোগ হতে পারে। সেই কারণগুলো হল: ফুলের রেণু, ধূলিবালি, চোখের ড্রপ্স, কসমেটিক্‌স, কনটাক্ট লেন্স, অশ্রুনালী বন্ধ হওয়া ইত্যাদি।

লক্ষণ:
চোখ উঠা রোগের অনেকগুলো লক্ষণ আছে। তবে প্রধান লক্ষণগুলো হল:

  • চোখ লাল হয়।
  • চোখের পাতা ফুলে যায়।
  • চোখ থেকে পানি পড়ে।
  • পিঁচুটি বা হলুদ রঙ্গের পুঁজ বের হতে থাকে।
  • চোখ আঠালো হয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চোখের পাতা এক সাথে লেগে থাকে।
  • আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
  • চোখে কিছু আছে বলে মনে হয় এবং খচখচ করে, চুলকায় ইত্যাদি।

মনে রাখবেন, সবগুলো লক্ষণ একসাথে নাও দেখা দিতে পারে।
রোগ সনাক্তকরণ:
সাধারণত উপর্যুক্ত লক্ষণগুলো থেকে সহজেই রোগ সনাক্ত করা যায়।

চিকিৎসা:
যেকোন রোগের ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থাতেই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভাল। চোখ উঠার ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা করালে অনেক সময় আরোগ্য লাভের সম্ভাবণা কমে যায়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে:

  • ব্যাকটেরিয়ার কারণে চোখ উঠলে এন্টি-বায়োটিক ড্রপ্‌স ব্যবহার করা হয়।
  • ভাইরাসজনিত কারণে হলে এন্টি-ভাইরাল ড্রপ্‌স ব্যবহার করা হয়।
  • অ্যালার্জিজনিত কারণে হলে এন্টি-হিস্টামিনিক ঔষধ ব্যবহার করা হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, এই লেখার উদ্দেশ হচ্ছে আপনাকে শুধুমাত্র একটি দিক-নির্দেশনা দেয়া। কখনই চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়।

জটিলতা:
চোখ উঠলে কর্ণিয়ায় ঘা, কর্ণিয়ায় ছিদ্র, এমনকি চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে!

প্রতিরোধ:
চোখ উঠা রোগ থেকে বাঁচতে হলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মেনে চলা উত্তম। প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো হল:

  • এক জনের ব্যবহৃত তোয়ালে অন্যজন ব্যবহার না করা।
  • আক্রান্ত চোখ স্পর্শ করলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
  • ডাক্তারের পরামর্শমত সঠিকভাবে সঠিক সময় ঔষধ নেয়া।
  • ঘনঘন চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকা ও চোখে বার বার পানির ঝাপসা না দেয়া।
  • অসুস্থ চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা যাবে না।
  • ধূলা-বালি ও সূর্যের আলো থেকে চোখ রক্ষায় কালো সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
  • পুকুরের পানিতে গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • চোখ উঠা ছোঁয়াচে রোগ। তাই পরিবারের অন্যান্যদের সাথে মেলামেশা কমানো উচিৎ।
  • শিশুদের চোখ উঠলে হালকা বা কুসুম গরম পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করতে হবে। চোখের পাতা খোলা রাখতে হবে। তবে জোর করে চোখ খোলার চেষ্টা করবেন না।

চোখ উঠা রোগ থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। শীতকাল চলছে। তাই এই সময়ে প্রয়োজন অধিক সচেতনতা। আর চোখের যেকোন রোগেই অবহেলা করবেন না। কারণ সামান্য ভুলের জন্য সারাজীবন আফসোস করা লাগতে পারে!