গারো পাহাড় বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের লীলাভূমি পানিহাটা

◷ ৪:৩৭ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জানুয়ারী ৩০, ২০১৭ দেশের খবর, ময়মনসিংহ
1 3

সাইদুর রহমান রাজু, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি-  সীমান্ত পাদদেশ ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত মনোমুগ্ধকর স্পট-পানিহাটা।

সারি সারি শাল, গজারী, সেগুন, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতাপাতার প্রকৃতির বিন্যাস ভ্রমন পিপাসু দল বেধেঁ ভিড় করে নৈস্বর্গিক সৌর্ন্দযের লীলা ভূমি রয়েছে এ গারো পাহাড়। এখানকার সবুজ প্রকৃতি আপন করে নেয় ভ্রমন পিপাসুদের।

1শ্যামল বৃক্ষরাজীর মাঝ দিয়ে আকাঁ-বাকাঁ পাকা সড়ক পথ আবার কোথাও গহীন জঙ্গল আবার কোথাও বা ছোট-বড় পাহাড়। সীমানা পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অনেক পাহাড়ও এখান থেকে দেখা যায়। ভারত সীমান্ত পাহাড়ের কোলে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য যে কারো মনকে আকৃষ্ট করবে।

এখানে রয়েছে নুড়িপাথর আর আকাশমনি, বেলজিয়াম, ইউক্যালিপটাস সহ বিভিন্ন রকমের বৃক্ষরাজি, রয়েছে নানা রকমের লতাগুল্ম আর বাহাড়ি গাছ-গাছরার সমাহার। রয়েছে পাদ্রি মিশন, শিশুদের পড়ালেখার জন্যে রয়েছে মিশনারি পরিচালিত একটি সাধু আন্দ্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া পাশেই রয়েছে ভোগাই নদী।

এখান থেকে উপভোগ করা যায় ভারতের প্রাকৃতিক অপরূপ দৃশ্য। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে দেখা যায় ভারতীয় মানুষের কোলাহল। এখানে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমিক মানুষ ছুটে আসেন। কাজের ফাঁকে কিংবা অবসরে পরিবারের লোকজন কিংবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে। প্রবাহমান নদীর স্বচ্ছ পানি আর ঝিরঝির শব্দ আর পাখির কলকাকলি গারো পাহাড়ের বিশেষ আর্কষন। এখানে এসে সবাই আনন্দ ধারায় হারিয়ে যান। পুরোদিনের জন্য স্মৃতি পটে আকাঁ হয়ে যায় একটি সোনালী সুন্দর রঙ্গিন দিন। মিতালী হয়ে যায়, পাহাড়ী গাছ-গাছালী ও পশু পাখির সঙ্গে। বিস্তৃত এলাকায় চোখে পড়বে খড়ের তৈরি অথবা মাটির ঘরে বসবাসরত দরিদ্র আধিবাসী সম্প্রদায়দের।

2ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত এই পানিহাটার প্রতি রয়েছে অন্যরকম ভালোবাসা। ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে আসতে হবে হালুয়াঘাট। সেখান থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তরে গোবড়াকূড়া স্থলবন্দর বাজার থেকে সীমান্ত পথে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমেই অবস্থিত পানিহাটা। এছাড়া শেরপুর হয়ে নালিতাবাড়ি উপজেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর দিকে চার-আলী বাজার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পুর্বেই পানিহাটা।

পানিহাটায় স্পটে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, গারো পাহাড়ের ভিতর এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা থাকতে পারে তা তারা আগে ভাবেনি। পানিহাটার পাশেই ভারতীয় সীমানায় বিশাল নদী, তার উপর বিশাল আকৃতির ব্রীজ অনেক মুগ্ধ করেছে তাদের। এত কাছ থেকে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সৌান্দর্য দেখা যায় তা তাদের বিস্মিত করেছে।

তারা বলেন, সরকারী উদ্যোগে যদি এখানে পর্যটকদের বসা ও থাকার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করা যায় তাহলে এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পে রূপান্তরিত হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।