টাঙ্গাইল থেকে অপহরণের দুই বছর পর ভারতে পাচারকৃত তরুণী উদ্ধার, গ্রেফতার ১২

৮:১৯ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৩০, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা থেকে অপহরণের দুই বছর পর ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতে পাচারকৃত তরুনীকে উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩।

এ ঘটনায় জড়িত আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২৯ জানুয়ারি) পাচারকৃত তরুনীকে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

tangail_এ ব্যাপারে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মুহাম্মদ মহিউদ্দীন ফারুকী সোমবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী গ্রামের খোকা মিয়ার স্ত্রী ও পাচারকৃত তরুনীর ফুপু লিখিত অভিযোগে জানান কে বা কারা ২০১৫ সালের ১৭ আগষ্ট ভাতিজি সাবিনা (১৮) কে অপহরন করে।

অপহরনের ১ মাস পর ২৫ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোন করে জানায় সাবিনা ভারতে আছে। ৫ লাখ টাকা পাঠালে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। টাকা পরিশোধে অসমর্থ রওশন আরা টাঙ্গাইল কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি অপহৃতা সাবিনার ক্ষতি সাধনের হাত থেকে রক্ষা করার আবেদন জানায়। এরই প্রেক্ষিতে ওই মুক্তিপন আদায়ের ফোনের সুত্র ধরে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে।

এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর র‌্যাব-১২ সদর দপ্তরসহ ইন্টারপোলের সহায়তা কামনা করে পত্র যোগাযোগ ও ভিকটিমকে উদ্ধারের জোড় প্রচেষ্টা চালায়। একই সাথে র‌্যাব-১২ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলে পত্র যোগাযোগ করে ভারতে পাচার হওয়া সাবিনাকে ফেরত আনা ও উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রাখে।

এ তৎপরতার এক পর্যায়ে সাবিনাকে নগদ টাকার মাধ্যমে ফেরত আনাতে ফাঁদ পেতে আন্ত পাচারকারী চক্রের সদস্য ও খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার গোবর চাকা মোল্লাবাড়ী গ্রামের মৃত হান্নান হাওলাদারের ছেলে রোকন (২২) একই জেলার তেরখাদা উপজেলার শেখপুরা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল সরদারের ছেলে আমির হোসেন (২৩), টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের মৃত হায়েত আলী মাস্টারের মেয়ে আয়েশা আক্তার আশা (২৮), গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলার নিজরা বটবাড়ী গ্রামের মাজেদ খন্দকারের ছেলে হাসান খন্দকার (৩০), যশোর জেলা ও উপজেলার ঘড়িভাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম মোড়লের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৮), রুহুল আমিনের ছেলে আবু সামাদ, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বেন্দার চর গ্রামের মৃত তৈয়ব মোল্লার ছেলে মিল্টন মোল্লা (২৩), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চররামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ মিজির ছেলে মামুন মিজি, গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলার মানিকদা গ্রামের মোঃ রেজাউলের ছেলে আবু তাহের (৩০), কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীর হাট গ্রামের মৃত ছালামত এর ছেলে সালমান (৩২) ও সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার শেখপুরা গ্রামের মৃত রকফান মোল্লার ছেলে আজগর মোল্লা (৩১) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ তারিখে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় দুটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের হয়।
গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলহাজতে রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে সাবিনা পাচারে জড়িত বলে স্বীকার করাসহ পাচারকারী তরুনীকে দিল্লী পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানায়।

এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১২, সিপিসি ৩ সরকারী পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় পুলিশ সাবিনাকে উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণকালে ভারতের দিল্লীতে থাকা পাচারকারী দলের পলাতক সদস্যরা পাচারকৃত সাবিনাকে বেনাপোল সীমান্ত এলাকার ভারতীয় সীমান্তে ফেলে রেখে যায়।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত হয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতিক্রমে যশোর জেলা পুলিশ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় গত ২৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয় বলে জানান, র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মুহাম্মদ মহিউদ্দীন ফারুকী ।