মসজিদে নামাযরত মুসলমানদের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি পাঠিয়েছে ট্রুডু

৪:১৮ অপরাহ্ন | সোমবার, জানুয়ারী ৩০, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – পূর্ব কানাডার কুইবেক সিটির একটি মসজিদে নামাযরত মুসলমানদের উপর আকস্মিক একদল বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনাকে একটি সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডু। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রুডো বলেন, ‘আমরা প্রার্থনা ও আশ্রয়ের স্থানে মুসলমানদের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাই। মুসলিম-কানাডিয়ানরা আমাদের জাতীয় কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আমাদের সমাজ, শহর বা দেশে এ ধরনের অর্থহীন কার্যকলাপের কোনো স্থান নেই।’

রবিবার সন্ধ্যায় চালানো ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আরো আটজন আহত হয়। এ ঘটনায় কুইবেক পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। হামলার সময় ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মসজিদটিতে প্রায় ৫০ জন মানুষ ছিলেন।

কুইবেক পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টিন কুলম্ব বলেন, নগর কর্তৃপক্ষ এই গুলি চালনার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিহত ছয় জনের বয়স ৩৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে বলে তিনি জানান।

মসজিদের সভাপতি মোহামেদ ইয়াঙ্গি আক্রমণের সময় মসজিদে ছিলেন না। পরে তিনি জানান, মসজিদের পুরুষদের জন্য রক্ষিত অংশে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা এবং হতাহতদের মধ্যে শিশুরাও থাকতে পারে। ওই সময় তাকে কেউ ফোন করেছিলেন। তিনি হামলায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন সে ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

canada-mosqu-attack-trudoকুইবেক সিটির মেয়র রেজি রাবোম সোমবার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাতি, বর্ণ, যৌন প্রবণতা বা ধর্মমতের কারণে কোনো মানুষের প্রাণ যাওয়া উচিত নয়।’ কুইবেকের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ কুইলার টুইটার বার্তা সংহতির ডাক দিয়ে বলেন, ‘চলুন আমরা সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই।’

নাশকতা রুখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জেরে তীব্র আলোড়িত বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই চলছে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদ। উল্টো পথে হেঁটে শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতাড়িত অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। আর তার মধ্যেই এ হামলা চালানো হলো।

কানাডায় মসজিদে হামলার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০১৩ সালে ওই কুইবেক অঞ্চলেরই একটি মসজিদে শূকরের রক্ত ছিটিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া, ২০১৫ সালে প্রতিবেশী ওনতারিও প্রদেশের একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল।

এর আগে, গত বছর জুনে ইসলামিক সেন্টারের এই মসজিটিতে একটি উপহার বক্স আসে। বক্সটিতে একটি শুকরের মাথা ছিল এবং একটি ছোট নোট ছিল; যেখানে লেখা ‘খাবার উপভোগ করো’। উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্মমতে- শূকরের মাংস খাওয়া হারাম।

রক্ষা পায়নি বাবার হাত ধরে নামায পড়তে আসা তিনবছরের শিশুটিও