সংবাদ শিরোনাম

ফতুল্লায় গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুন, একই পরিবারের ৬ জন দগ্ধগাজীপুর পিরুজালী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধারদেশেই টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীকক্সবাজারে ইয়াবা সম্রাটের সহযোগীর বাড়ি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারসিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘এ যুগে কোন রাষ্ট্রে সাংবাদিক না থাকলে সে রাষ্ট্র বর্বর হতে বাধ্য’

৯:৩৯ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ আলোচিত বাংলাদেশ

শামছুজ্জামান বাবুল, নান্দাইল প্রতিনিধিঃ সাংবাদিকদের গুরুত্ব ও মর্যাদা বুঝে তাদের সাথে আচরণ করা উচিত। এ যুগে কোন রাষ্ট্রে সাংবাদিক না থাকলে সে রাষ্ট্র বর্বর হতে বাধ্য প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ময়মনসিংহের নান্দাইলের সেই প্রতিবাদী অধ্যাপক আফেন্দী নূরুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করছেন।

তিনি প্ল্যাকার্ডে উল্লেখ করেন, সাংবাদিক স্থবির তো পুলিশ স্থবির, পুলিশ স্থবির তো সরকার স্থবির, সরকার স্থবির তো রাষ্ট্র স্থবির। তখন রাষ্ট্র বর্বর হতে বাধ্য।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ, ভালো মন্দ কর্মকান্ডের সংবাদ, ছবি ইত্যাদি সংগ্রহ করা। এরপর পুলিশদের তদন্তকর্ম।

fff২৬ জানুয়ারী জাতীয় তেল গ্যাস কমিটির হুট করে ডাকা হরতালে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশদের চড়াও হওয়া ঠিক হয়নি। সাংবাদিকদের লাঠিপেটা করা, লাথিমারা, খুন করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিকদের যথাযথ মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠত হোক আশা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে বিনীত ভাবে ইচ্ছা পোষন করেন তিনি।

অধ্যাপক আফেন্দী নূরুল ইসলাম বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, বঙ্গবন্ধ কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নথ করেনি। যতদিন বেঁচে থাকতো তাঁর আদর্শ নিয়েই থাকবো। এ আমার ৪৪তম প্রতিবাদ।

এমন ভাবে বিভিন্ন সময় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সমাজের নানা অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছেন প্রবীণ এ শিক্ষক। জঙ্গিবাদ, ঘুষ-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শিশুহত্যা, পেট্রলবোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করেও প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায়।

উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের তুরুন্তিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আফেন্দী নুরুল ইসলাম (৭০)। এলাকার মানুষ তাঁকে আফেন্দী স্যার নামে চেনে। নান্দাইলের শহীদস্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন তিনি। এখন অবসর জীবন যাপন করছেন।

প্রবীণ এই প্রতিবাদী শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিবাদ যদি না করো, কেউ তোমার কথা শুনবে না। প্রতিবাদ প্রথমে অন্তরে ধারণ করতে হয়, পরে প্রকাশ করতে হয়। ১৯৮৫ সালের কথা, তখন তুরুন্তিপাড়া গ্রাম থেকে সাইকেল চালিয়ে কলেজে এসে পড়াতেন। সদরে আসার পথে অনেক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতেন তিনি। বাজারে ইজারাদারের জুলুম, গ্রামে মহাজনের ও সুদের কারবারিদের জুলুম ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তখন থেকেই তাঁর ভেতরে একধরনের প্রতিবাদী চেতনার জন্ম নেয়। রাস্তায় প্রত্যক্ষ করা এসব দৃশ্য তিনি ডায়েরিতে টুকে রাখতেন।

পরে বঙ্গবাণী নাম দিয়ে হাতে লিখে একটি পত্রিকা বের করেন। গল্প ও প্রবন্ধের পাশাপাশি ওই পত্রিকায় এসব জুলুমের ঘটনা লিখতেন। অনেক কষ্ট করে হাতে লিখে কার্বন কাগজ দিয়ে চার-পাঁচ কপি পত্রিকা বের করে বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করতেন। এভাবেই ভেতরে পোষণ করা প্রতিবাদের ভাষা বাইরে প্রকাশ করেন।

আশির দশকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরু চোরের উপদ্রব দেখা দেয়। চোরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কৃষককে গরুর সঙ্গে গোয়ালঘরে রাত যাপন করতে হতো। এমনকি গরুর গলায় শিকল বেঁধে তাতে তালা দিয়ে শিকলের অপর প্রান্ত কৃষকের শরীরে বাঁধা হতো। শেরপুরের মাটিকাটা গ্রামে মাটির নিচে বাংকার তৈরি করে তাতে চোরাই গরু রেখে গৃহস্থের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত চোরেরা। কৃষক থানায় গরু চুরির মামলা করতে এলে পুলিশ মামলা নিত না। করতে হতো গরু হারানোর মামলা। কৃষকদের দুরবস্থা দেখে আফেন্দী নুরুল ইসলাম একাকী প্রতিবাদ শুরু করেন। কলেজে পাঠদান শেষে নান্দাইলের বিভিন্ন গ্রামে সাইকেল দিয়ে ঘুরে এক মাসে ৩০০টি গরু চুরির তালিকা তৈরি করেন।

ওই সময় আফেন্দী নুরুল ইসলাম পোস্টার লিখে গরু চুরি বন্ধ করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আফেন্দী স্যারের এই অহিংস প্রতিবাদের কারণে পুলিশ প্রশাসনকে চরম বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। পরে তারা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নান্দাইল থেকে গরু চুরি প্রায় নির্মূল করে। এরপর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি তাঁর একাকী প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রবীণ এই শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে নান্দাইল শহীদস্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপনায় যোগ দেন। ২০০৮ সালে তিনি অবসর নেন। তাঁর রচিত দুটি গল্প, দুটি কাব্যগ্রন্থ ও একটি অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।