• আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শত পারিপার্শিকতা উপেক্ষা করে লক্ষ্যের পথে ছোটা সংগ্রামী এক স্কুলছাত্রীর ব্যতিক্রমি দৃষ্টান্তের গল্প !

৬:২৩ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ আলোচিত, নারী, শিক্ষাঙ্গন, স্পট লাইট

শত পারিপার্শিকতা আর দারীদ্রতার কষাঘাত ডিঙিয়ে লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলা দৃঢ়প্রত্যয়ী স্কুলছাত্রী রেজিয়ার গল্পটি হতে পারে অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

শত বাঁধা আরা নানা প্রতিকূলতার মাঝেও কোন কিছুই আটকাতে পারেনি পিতৃহীন স্কুলছাত্রী রেজিয়া খাতুন (১৭) কে। বাবার মৃত্যু আর নিজের বাল্য বিবাহ রোধ করে রেজিয়া এখন স্কুল যেতে শুরু করেছে।

অন্যদের থেকে রেজিয়া একটু আলাদা রকম, কোন বাধাকেই সে ভয় পান না। সেজন্য এলায় রয়েছে তার সংগ্রামী রেজিয়া হিসাবে পরিচিতি। আর এই নানান সাহসী গুনের কারণে সম্প্রতি উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে এ কিশোরীকে দেয়া হয়েছে জয়িতার পুরস্কারও।

বর্তমানে আত্মপ্রত্যয়ী এই মেয়েটি আদিতমারী উপজেলার পলাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছেন। উপজেলার উত্তর তালুক পলাশী গ্রামে নানীর বাড়িতেই বসবাস রেজিয়ার।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের শুকানদীঘি গ্রামের দিনমজুর আছিমুদ্দীনের মেয়ে রেজিয়া। ২ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সে পঞ্চম। ১৩ বছর পূর্বে তার বাবা ৫ শতাংশ জমি রেখে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর রেজিয়ার আশ্রয় হয় নানী লতিফুন নেছার বাড়িতে। নানী অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার ও তার লেখাপড়ার চালান। শত কষ্টের মাঝেও চলছিল তার লেখাপড়া।

school-student-rezaia-lalmo

হঠাৎ একদিন মা সাহিদা খাতুন তার বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু বাঁধ সাধেন কিশোরী মেয়েটি। মাকে সাফ জানিয়ে দেন, এ বয়সে সে বিয়ে করবে না। সে লেখাপড়া করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। নানীর বাধার পরেও তার মা সহিদা খাতুন জোর করে হলেও মেয়ের বিয়ে দিবেন।

বিয়ের সকল আয়োজন শেষ। বর আসবেন রাতে। এমন সময় রেজিয়া কাউকে না জানিয়ে ঢাকায় বোনের বাসায় চলে যান। যাওয়ার আগে রেজিয়া একটি চিঠি লিখে যান।

তিনি লিখেন- নানী তুমি চিন্তা কর না, আমি ভাল আছি। আমি আমার মায়ের চাপে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। বাড়িতে থাকলে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিত। আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু মহাপাপ জেনে সেটি করিনি।

অপর দিকে আদিতমারীতে কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের এতিম শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের সদস্য ছিলেন রেজিয়ার নানী লতিফুন নেছা। ঘটনাটি জানার পর সংগঠনটি রেজিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাদের হস্তক্ষেপে কিশোরী মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর সংগঠনটির পক্ষ থেকে রেজিয়াকে মাসিক ৫শ টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি ও ব্যবসার জন্য আঠার হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

সেই টাকা দিয়ে নানীর বাড়ির পার্শ্বের একটি পুকুরে মাছ চাষ, দু’টি ছাগল ক্রয়, হাঁস- মুরগী পালন ও সবজি চাষ শুরু করেন রেজিয়া। এছাড়াও সে নিজে স্কুলছাত্রী হয়েও গ্রামে শুরু করেন প্রাইভেট পড়ানোর। যা আয় হয়, তা দিয়ে নানী-নাতনির সংসার কোন রকম চলে যায়। এত কিছুর পরেও রেজিয়ার মা সাহিদা খাতুন তাকে বিয়ে দেওয়ার চাপ দিচ্ছে।

রেজিয়ার নানী লতিফুন নেছা জানান, রেজিয়া মোর নাতনী নয়, এটা মোর ছাওয়া। মুই ভিক্ষা করি হইলেও ইয়াক পড়াইম। তিনি রেজিয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।