সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর আসনে অাজ ভোট যুদ্ধ


 rr


অন্তু দাস হৃদয়,  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়মীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগের পর শূন্য টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপ-নির্বাচন আজ(৩১ জানুয়ারি)  মঙ্গলবার। কে অাসছেন  শেষ পর্যন্ত  এই আসনে…? অনেকটা নিশ্চিত থাকলেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোট শেষ না হওয়া ও  ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত।

গত রোববার মধ্য রাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী  আসনের ভোট গ্রহনের সকল প্রস্তুতি গ্রহন শেষ করেছে  টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কমিশন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছে এ আসনের এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস।

জানা যায় , আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারি (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন) ও ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইমরুল কায়েস (আম) প্রতিকে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন টাঙ্গাইল-৪ উপ-নির্বাচনে। প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে আ’লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ও এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস নির্বাচনের মাঠে ছিলেন।

অপর প্রার্থী বিএনএফ’র আতাউর রহমান খান (বড় ভাই) ভোট গ্রহনের তারিখ পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে এ আসনের উপ-নির্বাচন আ’লীগ প্রার্থীর জন্য ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি দুপুরে নির্বাচন কমিশন( ৩১ জানুয়ারি) মঙ্গলবার ভোট গ্রহনের দিন ঘোষণা করার পর থেকে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে অবিরাম প্রচারণায় অংশ নেন।

কালিহাতী  উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সভা, সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করে প্রচারণা চালান। বিএনএফ প্রার্থী আতাউর রহমান খান (বড় ভাই) ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি প্রচারণা চালান। ২৭ জানুয়ারি দুপুরে তিনি ভোট গ্রহনের সময় পিছিয়ে প্রচারণার সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে ঢাকায় চলে যান। প্রচারণার শেষ মুহুর্তেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস (আম) ২৭ জানুয়ারি প্রচারণায় নামেন। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি কালিহাতী পৌরসভা, বল্লা, পাইকড়া, সহদেবপুর, নাগবাড়ী, পারখী, বীরবাসিন্দা, কোকডহড়া, দশকিয়া, সল্লা, গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন, এলেঙ্গা পৌরসভা, কামান্না, রামপুর, তেজপুর, গন্ধিনা, রতনগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় নির্বাচনী সভা করেন।

এ দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী জানান, এ আসনে ২০১৫ সালের ২০ মার্চ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তখন থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা চলছে।

মামলার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিলম্ব হলেও নৌকার প্রচারণা থেমে থাকেনি, তাই ইসি ভোট গ্রহনের আগে প্রচারণার জন্য কম সময় দেওয়ায় নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বেনা। কালিহাতীর মানুষ দীর্ঘদিন অভিভাবকহীন ছিল, উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। ৩১ জানুয়ারি  মঙ্গলবার অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনে কালিহাতীবাসী তাকে এমপি হিসেবে রায় দেবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এনপিপি প্রার্থী ইমরুল কায়েস জানান, প্রচার-প্রচারণার জন্য তিনি খুব অল্প সময় পেয়েছেন। এ অল্প সময়ে দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে প্রচারণার জন্য যথেষ্ট নয়।

এ সময় তিনি আরো বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা জরুরি। আমি সেনা মোতায়েন করার জন্য লিখিত আবেদন করেছি। জনগন ভোট দিতে পারলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়াও বিএনএফ প্রার্থী আতাউর রহমান খানের সাথে ফোনে যোগাযোগ  হলে তিনি  জানান, ভোট গ্রহনের তারিখ পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কালিহাতীতে তাঁর সংগঠন রয়েছে। ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি মাত্র পাঁচ দিন উপ-নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নয়। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে একটি করে সভা করতেও নূন্যতম ১৫দিন সময় দরকার।  তাই তিনি সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দৌড়ঝাপ করছেন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত ২৮ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুরে কালিহাতী ডিগ্রি কলেজে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ।

এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যেখানে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আপনারা তা নেবেন। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি কালিহাতী সদরে বন বিভাগের রেস্ট হাউজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন তিনি।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম খান, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ আহমদ ও কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার আখেরুজ্জামান মিয়া।

এ প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা রোববার (২৯ জানুয়ারি) ১২টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ভোট গ্রহনে অধীর অপেক্ষায় রয়েছি। সেনা মোতায়েনে করার বিষয়টি ইসির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা দেখছেন, আমরা নির্দেশনা অনুয়ায়ী কাজ করছি।

কালিহাতী উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা, দুই লাখ ৯০ হাজার ৫৫জন। এরমধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৩ হাজার ২৫৫জন। উপজেলার ১০৭টি ভোট কেন্দ্রের ৬৬১টি কক্ষে ৩১ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহন হবে।

উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্কে এক সভায় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বহিকৃত এবং মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর গত বছর  ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন।

এতে শূন্য হয়ে যায় ওই আসন। এই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন লতিফ সিদ্দিকীর  ভাই  কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর অাবদুল   কাদের সিদ্দিকী। তবে, ঋণখেলাপের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

এর বিরুদ্ধে বঙ্গবীর   কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তা ওই বছরের ১৮ অক্টোবর খারিজ হয়।
এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদনের ওপর রায় দেন। এতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। ফলে স্থগিতাদেশ উঠে যায়।

তখন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলে ছিলেন, রায়ের পর টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। আর ওই উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না বঙ্গবীর  কাদের সিদ্দিকী। এরপর আসনটিতে ২০ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে আবেদন করেন কাদের সিদ্দিকী। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর ফলে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারান তিনি। পরে পূণরায় নির্বাচনের দিন ঘোষনা করা হয়।

◷ ৭:১৯ পূর্বাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ জাতীয়, স্পট লাইট
রাজধানীতে বিস্ফোরণ, উড়ে গেল সড়কের ঢাকনা

⊡ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১

bnp ৩০ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

⊡ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১

rehana করোনার টিকা নিলেন শেখ রেহানা

⊡ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১

রোজার আগেই পাপুলের আসনে ভোট

⊡ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১