সংবাদ শিরোনাম

এবার মেলানিয়াও ‘ছেড়ে গেলেন’ ট্রাম্পকে!, ভিডিও ভাইরালকরোনায় মৃতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকার চেক দিল ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডপাগলা মসজিদের সিন্দুকে এবার দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা, মিলেছে স্বর্ণালঙ্কারওবগুড়ায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতারঝালকাঠি বাস টার্মিনাল: নেই যাত্রী ছাউনি, টয়লেট কিংবা বিশ্রামাগারঅসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা: খাদ্যমন্ত্রীহিলিতে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারদেশে করোনায় মৃত্যু ৮ হাজার ছাড়ালচাটমোহরে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি, আতঙ্কে মালিকরাচুয়াডাঙ্গায় গৃহহীন ১৩৪টি পরিবারকে জমিসহ পাকা ঘর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • আজ ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জামালপুরের নিভৃত গ্রামে গান্ধী আশ্রম

◷ ১২:৪৭ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ দেশের খবর, ময়মনসিংহ
gandi

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল ভারতবষের্র মানুষ। স্বদেশি চেতনায় ভারত জুড়ে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছিল গান্ধী আশ্রম। এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে সময় নাসির উদ্দিন সরকার নামে এক গান্ধীভক্ত জামালপুরের নিভৃত গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন গান্ধী আশ্রম।

gandi

দেশ ভাগের পর আশ্রমের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়েছে সেই গান্ধী আশ্রমের কার্যক্রম। পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে একটি মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর। প্রতিষ্ঠান দুটির নানা স্মৃতিচিহ্ন দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশি চেনতাকে ধারণ করে ১৯৩৪ সালে জামালপুর মহকুমা কংগ্রেসের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন সরকার জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কাপাশ হাটিয়ায় গড়ে তুলেছিলেন গান্ধী আশ্রম। সে সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নানা কর্মপরিকল্পনা করা ছাড়াও চরকায় সুতা তৈরি, নারীদের হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ, লেখাপড়াসহ গ্রামের মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এ আশ্রম থেকে।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এ আশ্রমের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৬ইং সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয় আশ্রমটির কার্যক্রম। এ আশ্রমের মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

গান্ধী আশ্রমের সেই সময়কার ঘরটিকে অক্ষত রেখে সেখানে সুতা তৈরির চরকা, গান্ধীর কিশোর থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নানা ছবি, গান্ধীর বাণী সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তি সংগ্রামে বাঙালির বহুমাত্রিক ও বর্ণাঢ্য ইতিহাস সংরক্ষণের মহৎ উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে একই আঙ্গিনায় গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘর।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং জামালপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধায়নে দ্বিতল জাদুঘর ভবন ও অডিটরিয়াম করা হয়েছে। এ মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘরে ব্রিটিশ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রামের নানা ছবি ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এছাড়াও জাদুঘরের পক্ষ থেকে মুক্তি সংগ্রামের বিভিন্ন স্মারক, তথ্য, উপাত্ত, আলোকচিত্র, দলিলপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের বধ্যভূমির মাটি সংগ্রহ ও সংরক্ষেণের কাজও চলছে।

মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক কালপর্ব ভিত্তিক ইতিহাস গ্যালারিও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ আশ্রম ও জাদুঘর দেখতে চলে আসছে শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থী। নিভৃত পল্লীতে গড়ে উঠা এ প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিটি পরতে পরতে মিশে রয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং মুক্তি সংগ্রামের নানা গল্প। যা থেকে নতুন প্রজন্মের অনেকে এখানে এসে প্রকৃত শিক্ষা পাচ্ছে।

নাসির উদ্দিন সরকারের নাতি ও ট্রাস্টি সদস্য হিল্লোল সরকার জানান, মহাত্মা গান্ধীর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে গান্ধী আশ্রম গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের সংগ্রহশালা। বাংলাদেশের এ একটি স্থানেই একসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠান দেখা যায়। এখানে মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর যেমন দেখা যায় তেমনি গান্ধী আশ্রমও দেখা যায়।

গান্ধী আশ্রম ও মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরের পরিচালক উৎপল কান্তিধর বলেন, গান্ধীর স্বদেশি চেতনা এবং বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সারাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সকল ইতিহাস এখানে সংরক্ষণ করা হবে। এভাবেই প্রতিষ্ঠান দুটি হয়ে উঠবে ইতিহাসের এক সংগ্রহশালা।