গাজীপুরে নির্মাণের ২০ বছরেও চালু হয়নি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অফিস

১:০৩ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

পলাশ মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর মহানগরের পূর্বভূরুলীয় ২০ বছর আগে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ঢাকা বনবিভাগীয় কার্য্যালয় এখন অপরাধী ও মাদকসেবীদের অভয়ারন্য।

nivi

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কাজ গতিশীল করার জন্য ১৯৯৮ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা এই কার্যালয় এলাকাবাসির গলার কাটা। গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কিলোমিটার উত্তরে প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত এই কার্যালয়ে না বসে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা অফিস ও বসবাস করেন ঢাকায়।

গাজীপুর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্মাণ করা হয় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কার্যালয়। এখানে আছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জন্য নির্মিত একটি অফিস কক্ষ ও একটি ডাকবাংলো সহ ৬টি ভবন। তবে গাজীপুরের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র রক্ষার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তার বসবাস ও অফিস করেন ঢাকায়। অথচ বনরাক্ষসদের কবলে পরে প্রতিদিনই ধ্বংস ও দখল হচ্ছে গাজীপুরের বনভূমি। কমে যাচ্ছে বনভূমির আয়োতন। এদিকে কার্যালয়ের ফাঁকা নির্জন ভবন ও বনাঞ্চল ঘিরে ছিনতাই, চুরি ও মাদকসহ এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘঠিত হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগরের ২৫ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ঢাকা বন বিভাগীয় কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই কার্যালয়ের ভবনগুলোর জীর্ণদশা। এখানে রয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়, রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার ডাকবাংলোসহ ৬ ভবন। প্রায় ভঙ্গুর ভবনগুলোর জানালা-দরজা নাই বললেই চলে। প্রশাসনিক মূল ভবনের পিছনের দিকে দেয়াল ভাঙ্গা।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দরজা-জানালা একটিও নেই, টিনের চাল নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্য ভবনগুলোর দেয়ালে ফাটল ধরেছে। কার্যালয়ের ফটকে অপেক্ষাকৃত নতুন একটি সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের অস্থায়ী কর্যালয়। তবে এখানে কোন কর্মকর্তা নেই। কার্যালয়ের বিশাল এলাকায় ভবনগুলো পাহারার কাজে নিয়োজিত একমাত্র নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ার হোসেন সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, প্রায় দেড় বছর যাবৎ তিনি এই অফিসের নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে আছেন। তিনি এসে ভবন গুলো এই অবস্থায়ই দেখতে পান।

তিনি দাবী করেন, বড় কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে পরিদর্শণে আসেন। বিশাল এলাকার নিরাপত্তার দায়ীত্বে তিনিসহ পাঁচজন নিয়োজিত ছিলেন। কয়েক মাস আগে বাকি চারজনকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। তিনি শুনেছেন আরো এক নিরাপত্তা কর্মীকে এখানে পোষ্টিং দেয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো কাজে যোগদেননি।