বরিশালে বাড়ছে একের পর এক কিশোর অপরাধ !

◷ ২:১৯ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

মোঃ ফেরদাউছ সিকদার, বরিশাল প্রতিনিধি-  বরিশাল নগরীতে কিশোর অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হৃদয় হত্যাসহ সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিশোরেরা এখন খুন-ধর্ষণের মতো ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। হৃদয় খুন হওয়ার পর বিভিন্ন মহলে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যেও বেড়েছে উদ্বেগ।

-----------অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরে গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমকিশোর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে মো. শামির রাফি (১৫) নামে বরিশাল জিলা স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর নগরের জাগুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. আরমানকে (১৪) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে হৃদয় নামে তার এক সহপাঠী তাকে তুলে নিয়ে নগরীর কালিজিরা সেতুর নিচে নিয়ে মারধর করে এবং বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকার লোকজন ও জেলেরা টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে আরমান রক্ষা পায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নগরীর নবগ্রাম এলাকার ফয়জুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্বী নিখোঁজ হয়। পরদিন একই এলাকার খান সড়কের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় ইমাম হোসেন ও শাকিল নামে দুই কিশোর বখাটে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইমাম স্বীকার করে, তারা তিন বন্ধু মিলে তন্বীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। একই মাসে মো. জালাল নামে এক অটোরিকশাচালককে হত্যা করে ছয় মাদকসেবী বখাটে কিশোর-তরুণ। ঘটনার এক মাস পর ওই বখাটেদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিশোরদের এমন অসহিষ্ণুতা ও অপরাধপ্রবণতার পেছনে মাদকাসক্তির একটি বড় কারণ বলে মনে করেন বরিশাল নগরীতে মাদক নিরাময়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘হলি কেয়ারের’ পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। তিনি বলেন, গত দুই বছরে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ২৫৭ জন মাদকসেবী এসেছে। এর মধ্যে ৫৩ জনই কিশোর, যারা ইয়াবায় আসক্ত।

কিশোরদের অপরাধপ্রবণতার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থার (পিবিআই) বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি এবং বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চার অভাব।