ঘুরে আসুন বাংলাদেশের বৃহত্তম দীঘি; রামসাগর!


রামসাগর

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কন্ঠস্বর

বিভিন্ন প্রয়োজনে এদেশে গ্রাম কিংবা শহর বিভিন্ন জায়গায় তৈরী হয়েছে বিভিন্ন পুকুর বা দীঘি। এর মধ্যে অনেক দীঘি তৈরী হওয়ার পেছনে রয়েছে বিশাল ইতিহাস। এরকমই একটি দীঘি হল দিনাজপুরের “রামসাগর”। নামের শেষে সাগর থাকলেও এটি আসলে দীঘি। তবে বিশালতায় যেন সাগরেরই সমান।

অন্যান্য দীঘি থেকে এই দীঘিকে আলাদা করে দেখার মতন অনেক দিক রয়েছে। এটি বাংলাদেশে মানুষের তৈরী বৃহত্তম দীঘি। আর এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীণ দীঘিগুলির মধ্যে একটি। এবং উত্তরাঞ্চলের পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা এটি।

বাংলাদেশের বৃহত্তম দীঘীটির আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। পাড়ের কাছাকাছি দীঘির গড় গভীরতা প্রায় ৪ ফুট। পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার। অর্থাৎ দীঘির মধ্যে পাড়ঘেষে কেউ দাড়ালেও তার গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে যাবে।

কিভাবে নির্মিত হয়েছিল এই দীঘিটি? এ নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। একটা সময়ে রাজা প্রাণনাথ এই অঞ্চল শাসন করতেন। কথিত আছে তার সময়েই এই দিঘীটি খনন করা হয়। তার রাজত্বকালে রাজ্যে একসময় প্রচন্ড খরা দেখা দেয়। কোথাও সামান্য খাবার পানি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছিল না।

তখন রাজা প্রাণনাথ এই বিশাল দীঘি খনন করেন। মাত্র ১৫ দিনে এই দীঘির খনন কাজ শেষ হয়। কিন্ত খনন শেষে দেখা যায় দীঘিতে পানি উঠছে না। তখন রাজা স্বপ্নে দৈববাণী পান যদি রাজকুমার রামকে যদি দীঘির মাঝখানে দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হয় তাহলেই একমাত্র দীঘিতে পানি আসবে।

রাজা সবাইকে ডেকে তার স্বপ্নাদেশ শোনালেন। রাজা চাইছিলেন না তার ছেলেকে হারাতে। কিন্ত রাজকুমার রাম নির্ভীকভাবে প্রজাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি হয়ে যায়। পরদিন দীঘির মাঝখানে বলির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। রাজকুমার রাম বলিকাঠে নিজের মাথা দেন।

এরপর থেকেই ভরে উঠতে থাকে দীঘিটি। দীঘির পানিতে তলিয়ে যায় রাজকুমারের মৃতদেহ। রাজকুমার রামের নামানুসারেই এই দীঘির নামকরণ করা হয় “রামসাগর”। অবশ্য স্থানীয়ভাবে এটি “নীলসাগর” নামেও পরিচিত। তবে ঐতিহাসিকদের মতে এই দীঘির ইতিহাস একটু অন্যরকম।

দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ এই দীঘি খনন করেন। রামনাথ ছিলেন দিনাজপুর রাজবংশের শ্রেষ্ঠতম রাজা। তিনি ১৭২২ সাল থেকে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরে রাজত্ব করেন। দিনাজপুর রাজবংশের ইতিহাসের মতে, ১৭৫০ থেকে ১৭৫৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে রামসাগর দিঘি খনন করা হয়।

কিভাবে যাবেন এই রামসাগরে? দিনাজপুর সদর উপজেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত এই রামসাগর জাতীয় উদ্যান। দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত এই রামসাগর।

বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয়  ১৯৬০ সালে রামসাগরকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনা হয়। ১৯৯৫-৯৬ সালে রামসাগরকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল রামসাগরকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রামসাগরের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে কিছু পিকনিক স্পট এবং শিশুপার্ক।

◷ ৭:৩৯ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ লাইফস্টাইল