তালতলীতে বিদ্যালয় আছে শিক্ষার্থী নেই, পতাকা উড়ছে শিক্ষক নেই

৯:২৬ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি- বিদ্যালয় আছে নেই শিক্ষার্থী। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়মিত জাতীয় পতাকা উড়ালেও ক্লাসে পাওয়া যায়নি শিক্ষক। অথচ শিক্ষক হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দিচ্ছে শিক্ষকরা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এমনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হচ্ছে বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ffffবিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০০সালে এমপিও ভুক্তি হয়ে বেশ কয়েক বছর সুনামের সহিত পরিচালিত হলেও বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফের অনিয়ম দুর্নীতির ও সেচ্ছাচারিতার কারনে শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সম্প্রতি ৩ জন শিক্ষক অন্যত্র চলে েেগছে। ২০১৬ সালে বিদ্যালয় সংস্কারের নামে অর্ধলক্ষাধিক টাকা সরকারি বরাদ্ধ আত্মসাত করেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য গোপনে ছোটবগী ইউনিয়নের বাসিন্দা তার আপনজন মো: হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সকল কারনে প্রধান শিক্ষকের সাথে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিভাবকদের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়। গত সোম, মঙ্গল, ও বুধবার ৩দিন সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে ওই বিদ্যালয় কোন ছাত্র শিক্ষক পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলী আকবার হাওলাদার, স্থানীয় সুলতান হাওলাদার ও জুয়েল জানান, ষষ্ঠ সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ৩-৪ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থীই নেই। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ওই ২ শ্রেণিতে ২২-২৫ জন শিক্ষার্থী দেখিয়ে বই সংগ্রহ করেছেন।

প্রধান শিক্ষকের সাথে স্থানীয় লোকজন, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সাথে সম্পর্কের টানা পোড়নের কারনে বিদ্যালয়ে লেখা পড়ার পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থী শুন্যতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরাও এখন আর বিদ্যালয়ে আসে না। শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যান বলেও তারা জানান।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফকে তার মুঠোফোনে বারবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদেন সভাপতি মো: হারুন অর রশিদ হাওলাদার জানান, কোন রকম বিদ্যালয়টি চলছে। ছাত্র ছাত্রী নেই কেন এরকম প্রশ্নের উত্তরে জানান, পাশেই একটি বিদ্যালয় থাকায় ছাত্র ছাত্রী কম আসে। তাছাড়া এখানে শিক্ষক ও করনিক নেই যে কারনে বিদ্যালয়টির এ রকম অবস্থা হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, আমি গত ২৬ জানুয়ারী বরগুনায় যোগদান করেছি এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি জেনে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।