সংবাদ শিরোনাম

ছাগল চুরির ঘটনায় জড়িত নন- সংবাদ সম্মেলনে দাবি সেই ছাত্রলীগ নেতারযতদিন বেঁচে আছি, আমার এলাকার একটি লোক না খেয়ে থাকবে না: জেএইচএম ডিএমডিটেকনাফে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২, সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধারশাহজাদপুরের খুকনী ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলনে সভাপতি শাহজাহান, সম্পাদক আফাজহাজি সেলিমের আপিলের রায় পড়া শুরুফতুল্লায় গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুন, একই পরিবারের ৬ জন দগ্ধগাজীপুর পিরুজালী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধারদেশেই টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীকক্সবাজারে ইয়াবা সম্রাটের সহযোগীর বাড়ি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারসিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজ পর্দা উঠছে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলার

১০:২২ পূর্বাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ Breaking News, ফিচার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর- একুশ মানে মাথানত না করা। সেই একুশের মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আজ। আজ বুধবার থেকে ভাই হারানোর ব্যথা আর মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার গৌরবে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭।

বাংলা ভাষা সাহিত্যের চর্চা, বিকাশ, বাঙালী সংস্কৃতির বহমান উদার অসাম্প্রদায়িক ধারায় অনন্য সংযোজন গ্রন্থমেলা বিকেলে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাঙালী জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক বাংলা একাডেমির আয়োজনে মেলায় অংশ নেবে দেশের প্রায় সকল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বই প্রকাশ প্রদর্শনী ও বেচা-কেনার এমন বর্ণাঢ্য আয়োজন সারাবিশ্বেই বিরল। বাঙালীর আবেগ-ভালবাসার অনিন্দ্যসুন্দর প্রকাশ গ্রন্থমেলা একইসঙ্গে বাঙালী সংস্কৃতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বইমেলাকাগজে-কলমে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ হলেও একুশে বইমেলা বা বইমেলা হিসেবেই এটি পরিচিত সারাদেশের মানুষের কাছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

ফেব্রুয়ারি মাস বাঙালির জীবনে নিয়ে এসেছিল ভাষার অহংকার। এ মাসের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল বাঙালি জাতি। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার এই আয়োজন সেই প্রাপ্তিরই পূর্ণতার স্বাদ দেয় বাঙালি জাতিকে।

ভাষা আন্দোলন, বাংলা একাডেমি আর একুশের বইমেলা একই সুত্রে গাথা। একুশের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ফসল বাংলা একাডেমি। একুশে বইমেলা বিকশিত হয়েছে বাংলা একাডেমিকে কেন্দ্র করে। নবগঠিত বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক সাহিত্যিক জাগরনের প্রথম প্রকাশ ‘অমর একুশে বইমেলা’।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে বইমেলার আয়োজন করা হয়। ভাষা আন্দোলনের গৌরবের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে বইমেলা’। বইমেলার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। এ ইতিহাসের সাথে যে নামটি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে তিনি চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গনে বটতলায় এক টুকরো চটের উপর কলকতা থেকে আনা ৩২ টি বই দিয়ে বইমেলার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশী শরনার্থী লেখকদের লেখা এ বইগুলি প্রকাশিত হয়েছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে যার বর্তমান নাম মুক্তধারা প্রকাশনী। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বইমেলা চলে এভাবেই। চিত্তরঞ্জন সাহার প্রচেষ্ট্রায় এ মেলা বিকশিত হতে থাকে ক্রমাগত। ১৯৭৬ সালে বইমেলার প্রতি উৎসাহিত হন অন্য প্রকাশকরা। বইমেলার পরিধি বাড়তে থাকে। পরবর্তী বছরে বিক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। ১৯৭৮ সালে বইমেলা একটি পূর্নাঙ্গ মেলায় রুপান্তরিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌছে। তৎকালীন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড.আশরাফ সিদ্দিক বাংলা একাডেমিকে বইমেলার সাথে সর্ম্পৃক্ত করার ঘোষণা প্রদান করেন। তখন থেকেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে বাঙালীর এ প্রানের মেলা শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলার সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। সে বছরই বাংলা একাডেমির সাথে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি যৌথভাবে বইমেলার আয়োজন করে। ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমী কতৃক গ্রন্থমেলার জন্য বিধিবদ্ধ নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়। একই সাথে এই বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে বইমেলা’। তখন থেকে গৌরবের সাথে প্রতিবছর অমর একুশে বইমেলা আয়োজিত হয়ে আসছে। গুটি কয়েক বই নিয়ে যে মেলা শুরু হয়েছিল তা আজ বাঙালীর প্রানের মেলা। অমর একুশে বইমেলা এখন আমাদের ঐতিহ্যের এক বিরাট অংশীদার। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত চলে দেশের সর্ববৃহৎ এ বইমেলা। বছরে এ মেলার সময়কাল হয় ২৮বা ২৯ দিন। অমর একুশে বইমেলা নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়।

এবার গ্রন্থমেলায় থাকছে ‘সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য’ শীর্ষক ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর তিনি গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চীনা গবেষক ও রবীন্দ্র-অনুবাদক ডং ইউ চেন, অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, ভারতের চিন্ময় গুহ প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি বিষাদসিন্ধুর অনুবাদ Ocean of Sorrow এবং জার্মানি থেকে প্রকাশিত Hundred Poems from Bangladesh তুলে দেওয়া হবে।

একুশে বইমেলায় এবার প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকছে, ৬৬৩টি। প্রথমবারের মতো ডিজিটাল লটারিতে যা পেয়েছে, ৪০৯টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫টি প্রকাশনা সংস্থা। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, মেলার পরিবেশের দিকেও। আয়োজকরা জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে লাগানো হয়েছে, নানা ধরনের গাছ। দুদণ্ড জিরানোর জায়গা থাকছে, ১০টিরও বেশি।

মেলার নিরাপত্তায় বসানো হচ্ছে ২৭০ টির বেশি সিসি ক্যামেরা। থাকছে র‍্যাব-পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প।

পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী এই আয়োজন, প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে চলবে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। তবে, ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১০টা থেকে।