বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর ডাকে বিশ্বের ১৯০টি দেশে পালিত হলো ‘আন্তর্জাতিক হিজাব দিবস’

২:৩৪ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ নারী, প্রবাসের কথা, স্পট লাইট

প্রবাসের কথা ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর –

গতকাল  বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী নাজমা খানের ডাকে চতুর্থ বছরের মতো বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক হিজাব দিবস’ পালিত হলো । নাজমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো বিশ্বের প্রায় ৬৭টি দেশের মুসলিম-অমুসলিম নারীরা হিজাব দিবস পালন শুরু করে। এ বছর ‘নারীর হিজাব পরার পক্ষে দাঁড়ান’ এ আহ্বানকে সামনে রেখে বিশ্বের ১৯০টি দেশে একযোগে হিজাব দিবস পালিত  হয়েছে ।

নাজমা খান জানিয়েছেন, শুরুর পর মাত্র দুই বছরের মাথায় গতবার ১৫০টি দেশে এ দিবস পালিত হয়েছিল। এবার সেটা উন্নীত হয়ে ১৯০ দেশে পালিত হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’র দাফতরিক ওয়েবসাইট সুত্রে প্রকাশ , মাত্র ১১ বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পাড়ি দেন  নাজমা পরিবার।  হিজাব দিবস পালনের ব্যাপারে নাজমা  বলেন, তিনি যখন হিজাব মাথায় স্কুলে যেতেন তখন তাকে অনেক অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তাকে ব্যাটম্যান এবং নিনজা বলে ডাকা হতো। আর ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনের পর তাকে ডাকা হতো ওসামা বিন লাদেন ও সন্ত্রাসী বলে।

najma khan world hijab day

তিনি বলেন, হিজাবকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে নারীর প্রতি নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এবং এ জন্য তাকেও অনেক বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আর এই বৈষম্যের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার অমুসলিম বোনদেরও হিজাব পরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার আহ্বান জানান। হিজাব দিবসের ডাক দেন।

তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম বছরেই ৬৭টি দেশের মুসলিম নারীরা ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং নাস্তিকরাও হিজাব দিবস পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ডের ট্রাম্পের আগমনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলমানরা নানা বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হিজাব পরা মুসলিম নারীরা হয়রানি-বৈষম্য-আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় এবারের হিজাব দিবসকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’র দাফতরিক ওয়েবসাইটে এবারের দিবসে উগ্র খ্রিস্টান ধর্মান্ধতা, বৈষম্য এবং মুসলিম নারীর অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।