সংবাদ শিরোনাম

মুশতাকের মৃত্যুকে ঘিরে আন্দোলনে বাতাস দিচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠী: তথ্যমন্ত্রীকক্সবাজারে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার যাবজ্জীবনস্বাধীনতা ইশতেহার পাঠের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভাবকেয়া বেতনের দাবিতে চট্টগ্রামে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধমাদক মামলায় দেশের ইতিহাসে প্রথম ফাঁসির আদেশকৃষকের অনীহা, আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থ খাদ্য অধিদফতরনিখোঁজের ৮ দিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার; পরিবারের দাবি হত্যাখালেদা জিয়ার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতিস্তা টোল প্লাজায় আট লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় রুপিসহ আটক ১শতাধিক যুবকের রঙিন চুল কাটালো পুলিশ

  • আজ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাতীবান্ধায় নিপাহ ভাইরাস ট্রাজেডির ৬ বছর

৪:০৬ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত, দেশের খবর, রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: শুধুমাত্র সচেতনার অভাবে নিপাহ ভাইরাস ট্রাজেডিতে প্রাণ হারায় ২৪ জন। দীর্ঘ ৬ বছর পরে ২০১১ সালের সেই ফেব্রুয়ারি মাস- আবারো ফিরে এলেও ঐসব প্রাণ হানির কথা আজও ভূলেননি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার এলাকাবাসী।
ঐ নিপা ভাইরাস কেড়ে নিয়েছিলো সবার প্রাণ প্রিয় অবুঝ শিশু, যুবক, সদ্য বিবাহীত য্বুকসহ মহিলাদেরকেও। আপনজনদের হাড়ানোর ব্যথায় আজও ব্যথিত স্বজনেরা।

জানা যায় যে, ২০১১ সালের এই দিনে (১ ফেব্রয়াারী) মাসের হাতীবান্ধা উপজেলায় কিছু লোকের হঠাৎ করে দেখা দেয় অজানা ‘জ্বর’। আর এই জ্বরে সংক্রামিত হওয়ার তিন থেকে চার দিনের মধ্যে লোকজন ঢলে পড়তে থাকেন মৃত্যুর কোলে।

পড়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরাক্ষা করে বের করেন এটি আসলে এনকেফালাইটিস । যা নিপাহ ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। আর এই নিপা ভাইরাসের সংক্রমনে কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশু, যুবক, মহিলাসহ বিভিন্ন বয়সী অন্তত ২৪ জন মানুষ প্রাণ হারাণ। যদিও সরকারীভাবে এ মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ জন বলে দাবি করা হয়। আর পাঁচ বছর আগে ঘটে যাওয়া মানবিক বির্পযয়ের সেই দুঃসহস্মৃতি আজও ভূলেনি ওই এলাকার মানুষরা।

হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড়স্থ চাতাল ও তামাক ব্যবসায়ী আব্বাস মিয়ার বড় ছেলে সবার প্রিয় আব্দুর রাজ্জাক, একই এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের বড় ছেলে আব্দুর করিমের তরতাজা দুটি প্রান্ত কেড়ে নেয়, সেই নিপা ভাইরাস। হাতীবান্ধা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা প্রাইমারীর প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার ঘোষ- তাপসী ঘোষ দম্পতি ২০১১ সালের এই সময়ে নিপা ভাইরাসের কারণে হারিয়েছিলেন তাদের দু’সন্তানকে। অপরদিকে একই অবস্থা বিরাজ করছে দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের কাজী জাহাঙ্গীরের পরিবারেও। তিনিও এই ঘাতক ভাইরাসে হারিয়েছিলেন তাঁর ছেট্টা দুই মেয়ে জয়ী ও সর্বোকে। শুধু ওই অবুঝ শিশুরাই নয় হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগে হতভাগি লিপি বেগম হারিয়েছে তাঁর স্বামীকে। বিয়ের ১১ মাস পর ওই নিপাহ ভাইরাসের আক্রমনে অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে ছেড়ে চির বিদায় নেন আজিজুল(২৭)। কিছুদিন পর লিপির কোলে ফুটফুটে এক শিশুর জন্ম হয়েছে ঠিকই কিন্তু বাবা নামক সেই প্রিয় ডাক অধরাই থেকে গেল তার।

nipa-virusসংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র মতে, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারীতে হাতীবান্ধায় আসা রোগ তত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষনা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞদল জানিয়েছিলেন, যেহেতু নিপা ভাইরাসের বাহক বাঁদুড় তাই কোনো এলাকায় একবার এ রোগ দেখা দিলে পরবর্তি কয়েকটি বছর শীতের মৌসুমে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার আশংকা থাকে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনতাই এই ঘাতক নিপা থেকে রক্ষার একমাত্র পথ বলে জানান বিশেষজ্ঞদলটি। সেই থেকে পরবর্তী বছরগুলিতেও বেশ প্রচার-প্রচারণা হওয়ায় জনসাধারণ মোটামোটি সর্তক হয়ে ওঠেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এবছর স্বাস্থ্য সচেতনায় সরকারী বা বেসরকারীভাবে এখন পর্যন্ত কোন প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. রমজান আলী বলেন, নিপা ভাইরাস সচেতনতায় লিফলেট বিতরণে মাসিক মিটিং এ আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও প্রচারের অংশ হিসেবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী উপজেলা সদরে র‌্যালী বের করা হবে বলে জানান তিনি। অপরদিকে ২০১১ সালে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণ করতে আগামি (শুক্রবার ) হাতীবান্ধায় অরণ্য-অনন্যা স্মৃতি সংসদ, সুদীপ্ত স্মৃতি সংসদ কালো ব্যাজ ধারণ, লিফলেট বিতরণ, মোমবাতি প্রজ্বলন করবে বলে জানা গেছে।