স্টোনহেঞ্জঃ রহস্যময় এক বিস্ময়কর পুরাকীর্তি! (প্রথম পর্ব)

৬:২৩ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ চিত্র বিচিত্র, স্পট লাইট

স্টোনহেঞ্জ

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

সেই আদিমযুগ থেকে মানুষ সৌন্দর্যের  পিছে ছুটে চলছে। তবে কিছু  সৌন্দর্য শুধু  সৌন্দর্যই নয়। তার পিছে আবার লুকিয়ে আছে অজানা নানান রকমের রহস্য। এমন এক বিস্ময়কর পুরাকীর্তি হচ্ছে স্টোনহেঞ্জ। যার প্রকৃত রহস্য এখনো অজানা রয়ে গেছে। বিস্ময়কর এই পুরাকীর্তিটি ইংল্যান্ডে অবস্থিত। ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ার (Wiltshire) সমতল ভূমির প্রায় ৮ মাইল উত্তরে স্টোনহেঞ্জ অবস্থিত। এতে বৃত্তাকারে বড় বড় দণ্ডায়মান পাথর রয়েছে এবং এগুলোর চতুর্দিকে মৃত্তিকা নির্মিত বাঁধ রয়েছে।

স্টোনহেঞ্জের গঠন খানিকটা জটিল। এর বাইরের দিকে একটি বৃত্তাকার পরিখা রয়েছে। প্রবেশ পথটির কিছুটা দূরেই রয়েছে মাটির বাঁধ। এ বাঁধের ভেতর চতুর্দিকে বেষ্টন করে আছে ৫৬টি মৃত্তিকা গহ্বর। পাথরগুলোর মধ্যে আরও দুই সারি গর্ত বেস্টন করে আছে। পাথরগুলোর গঠনের মধ্যে আছে দুইটি বৃত্তাকার এবং দুইটি ঘোড়ার খুরের নলের আকারবিশিষ্ট পাথরের সারি। এ ছাড়াও কতগুলো পৃথক পাথর রয়েছে অলটার স্টোন বা পূজা বেদীর পাথর বা শ্লটার স্টোন বা বধ্যভূমির পাথর।

প্রত্নত্ত্ববিদগণের ধারণা অনুযায়ী, বিশাল বিশাল পাথরের এই বৃত্তাকার জায়গাটি সে সময় মানমন্দির হিসেবে ব্যবহার করা হত। বিশেষ করে ঋতু চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহার করা হতো এটি। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, এটি ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং নবপোলীয় মানুষেরা ৩২০ ফুট ব্যাসের একটি বৃত্তাকার পরিখা খনন করেছিল হরিণের শিং ব্যবহার করে ।

২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে স্টোনহেঞ্জ ৬০ টি ব্লুস্টোন দ্বারা খাড়া ভাবে নির্মিত হয়। আর এটি নির্মাণ করা হয় ব্রোঞ্জ যুগে। সে সময় মানুষরা এসব পাথর নিয়ে এসেছিল তাদের কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে নয়, বরং সেগুলো আনা হয়েছিল ২৪০ মাইল দূর থেকে, এবং এসব পাথরের প্রতিটির ওজন ছিল প্রায় ৪ টন।

স্টোনহেঞ্জের তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ প্রায় একশত বছর পর এর পাথরগুলো সাজানোর কাজটি করা হয়। এ সময় পাথরগুলো টেনে আনা হয় ২০ মাইল দূর থেকে এবং প্রতিটি পাথরের ওজন ছিল তখন প্রায় ৫০ টনের কাছাকাছি বা তারও বেশি।

তারপর সেগুলোকে খাড়া ভাবে একটি বৃত্তের মাঝে স্থাপন করা হয় এবং তারপর বৃত্তের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোর উপরে পাথর দিয়ে সরদল স্থাপন করা হয়। তারপরই নির্মিত হয় মূল স্টোনহেঞ্জ অর্থাৎ বর্তমান সময়ে আমরা যা দেখছি। আর এই স্টোনহেঞ্জের মাধ্যমেই সূর্যের অবস্থান দেখে সেই সময়ের মানুষেরা ঋতু নির্ণয়ের কাজটি করতো ।

প্রধানত তিনটি কারণে স্টোনহেঞ্জ নির্মিত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে যখন প্রথম স্টোনহেঞ্জের নির্মাণ কাজ শুরু হয় তখন বাইরের দিকের পরিখা ও একটি বাঁধ নির্মিত হয়। বাঁধটির অভ্যন্তরে চতুর্দিকে ৫৬টি গর্ত খনন করা হয়। গর্তগুলোর আবিষ্কারক আব্রের নাম অনুসারে গর্তগুলোকে আব্রে গর্ত নামে আখ্যায়িত করা হয়। হেলি স্টোনও এ নির্মাণকাজের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কিন্তু এই বিস্ময়কর এই পুরাকীর্তিটি কারা তৈরি করেছিল ?এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কি পাওয়া যাবে কখনো?

(রহস্যময়  স্টোনহেঞ্জ এর বাকি অংশ পরের পর্বে আলোচনা করা হবে।)

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ব্লগ।