যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞা পালনে বিমানবন্দর থেকে ফেরানো হচ্ছে মুসলমান যাত্রীদের

◷ ৮:৫১ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ প্রবাসের কথা

প্রবাসের কথা ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর –

new-york-bangladeshi-student-arest

সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর শুরু হয়েছে। শনিবার ভিসা থাকার পরও ইরাকের পাঁচজন এবং এক ইয়েমেনিকে মিসরের কায়রো বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কগামী ইজিপ্টএয়ারের বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেন। ওই আদেশে বলা হয়, মুসলিম অধ্যুষিত সাত দেশ ইরাক, সিরিয়া, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন থেকে আগামী ৯০ দিন কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবে না।

এছাড়া আগামী চার মাস আর কোনো শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। সিরীয় শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত।

রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের আদেশের অংশ হিসেবেই শনিবার ওই ছয় যাত্রীকে আটকে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। কায়রো বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ওই ছয় যাত্রী কায়রো বিমানবন্দরে ট্রানজিট নেন। সেখান থেকে নিউইয়র্কগামী ফ্লাইটে উঠতে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরকর্মীরা তাদের আটকে দেয় এবং ওই ছয়জনকে সেখান থেকে তাদের নিজ নিজ দেশে যাওয়ার বিমানে তুলে দেয়া হয়। যদিও যাত্রীদের সবার কাছেই বৈধ ইমিগ্রেশন ভিসা ছিল।

ইজিপ্টএয়ারের ফ্লাইট ৯৮৫-এ করে তাদের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

পাঁচ ইরাকি ইরবিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে কায়রোতে ট্রানজিট নেন। আর আটকে পড়া ইয়েমেনি কায়রো থেকেই যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছিলেন। ওই ছয় ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী প্রকল্পের আওতায় ভিসা পেয়েছিলেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে রয়টার্সকে জানান জাতিসংঘের এক মুখপাত্র।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এর আগে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জারির পরে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে দুই ইরাকি শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা তাদের মুক্তি চেয়ে নিউইয়র্কের এক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
বিবিসি জানায়, বিমানবন্দরে আটক হওয়া দুই ইরাকির একজন  হানিদ খালিদ দারওয়িশ মার্কিন সেনাবাহিনীর হয়ে দোভাষীর কাজ করেছেন। ট্রাম্প যখন তার নিষেধাজ্ঞার আদেশ জানি করেন তখন ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের ট্রানজিটে ছিল।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর করতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। আর শরণার্থীদের বিমানে আটক করায় ট্রাম্প ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারিকে বাদী করে মামলা করেছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি বলে, আটক হওয়া সাহসী হানিদ খালিদ দারওয়িশ মার্কিন সেনাবাহিনীর অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছে এবং সামির আলশাওয়ি মার্কিন সেনাবাহিনীকে সহায়তা করায় স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল ইরাকে। মামলায় শরণার্থীদের পক্ষ নেয়া আমেরিকান সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন বলেছে, আইনজীবীরা বেশ কয়েকটি বিমানের যাত্রী হিসেবে কারা আসছেন তার হিসাব রাখছে। তবে কতজন ব্যক্তি এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন সেটা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

শনিবার মিশরের কায়রো থেকে নিউইয়র্কগামী বেশ কয়েকজন ইরাকি যাত্রীকে আটকে দেয়া হয় সেখানে। যদিও তাদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা ছিল তারপরেও তাদের কায়রোতেই আটকে দেয়া হয়। বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বাংলাদেশি এক তরুণ শিক্ষার্থীকে আটকের অভিযোগ

বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট আটক করেছে বলে জানিয়েছেন একজন মানবাধিকার আইনজীবী। বাংলাদেশি এই তরুণ শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে মঙ্গলবার বিমানবন্দরে নামার পর তাকে আটক করা হয় বলে ঐ মানবাধিকার কর্মী তার ফেসবুকে জানিয়েছেন।

মানবাধিকার আইনজীবী ইমান বুকাডুম ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে জানান, ছাত্রটি বাংলাদেশ থেকে ৩০ ঘন্টা বিমান ভ্রমণ শেষে জেএফকে বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটক করে আইসিই(ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রটি এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এরপর সিবিপি (কাস্টমস এবং বর্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনী) তাকে ইংরেজিতে তিনটি ভিন্ন কক্ষে ১২ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও সে ইংরেজিতে মোটেও দক্ষ ছিল না এবং সুদীর্ঘ ৩০ ঘন্টা বিমান ভ্রমণ করেছিল।

ইমান বাকাডুম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি। কিন্তু তিনি ওই তরুণকে রক্ষার জন্য সহকর্মী আইনজীবীদের সহায়তা কামনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ছাত্রটির অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে জানান, আটক করার পর সে বার বার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল।

তিনি ছাত্রটিকে প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারবে এরকম দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সন্ধান করেন।

তিনি বলেন, সে আত্মহত্যা করার মতো অবস্থায় রয়েছে। সে দিনে ৭ বার আমাকে ফোন করে তাকে মুক্ত করার জন্য কান্নাকাটি করে।  সে বিরামহীন ফোন করে চলছে এবং কান্নাকাটি করছে। পুরো বিষয়টিই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার মতো।

ইমান তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, আইসিই হেফাজতে তাকে প্রহার করার হুমকি দেয়া হয়। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চিৎকার করে তার সঙ্গে কথা বলা হয়। কিন্তু তরুণটি তাদের ভাষা পুরোপুরি বুঝতে এবং বলতে অপারগ। এছাড়া কিছুক্ষণ পর পর তার দেহ তল্লাশি করে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশি তরুণটিকে নিউজার্সির অভিবাসী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এটি সবচেয়ে খারাপ অভিবাসী আটক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অবশেষে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার জন্য শুনানি ধার্য করা হয়েছে।