সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আদিতমারীতে হাটের জমিতে দখল করে ভাড়া আদায় !


মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সরকারী হাটের খাস জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় দখল বাজদের বিরুদ্ধে।

দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও দেড় বছরেও তা করা হয়নি। প্রায় দেড় একর জমি অবৈধ্য দখলবাজদের দখলে রয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় কমলাবাড়ি ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ হাটে। ।

স্থানীয় ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ৫টি দাগের ১.২৯ একর জমির উপর হাজীগঞ্জ হাট অবস্থিত। ১৯৯৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হাটের এ জমি পেরীফেরী করে নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। পেরীফেরী ভুক্ত ১৬৬৫ দাগে ১.৪৩ একর জমির মধ্যে হাটে রয়েছে ০.৭১৫ একর। তমধ্যে ০.৪১৫ একর জমির মালিকানা দাবি করে কোর্টে মামলা করেন স্থানীয় ছোট কমলাবাড়ির গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক।

unnamedএ মামলায় আদালত বাদির পক্ষেই আদেশ জারি করেন। সেই আদেশের উপর রাস্ট্র পক্ষ আপিল করলে দুই দফায় তা খারিজ করেন জেলা যুগ্ন জজ আদালত। পরবর্তিতে হাইকোর্ট ডিভিশনের সিভিল রিভিশন ২৯৫৬/২০০২ নং মামলাও বাদির পক্ষেই আদেশ জারি করেন।

এরই মাঝে ২০০৭ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমানকে ৯.৩৩ বর্গ মিটার জমি বন্দবস্ত প্রদান করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু হাইকোর্ট মামলার বাদি আবু বক্করকে ১৬৬৫ দাগের ০.৪১৫ একর জমির সীমানা নির্ধারনের আদেশ দিলেও তা কার্যকর হয় নি বলে আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি।

অপরদিকে রাস্ট্র পক্ষের অহেতুক দাবি করা পেরিফেরী ভুক্ত ও হাটের সকল সম্পত্তি স্থানীয় কতিপয় দখলবাজ দখল করে অবৈধ্য স্থাপনা নির্মান করে ভাড়া আদায় করছে। যার কারনেই হাজীগঞ্জ হাটের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে হাটের ইজারাদার উপজেলা ভুমি অফিসে আবেদন জানালে উপজেলা হাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ২৩/১০/২০১৫ তারিখের সভায় উক্ত হাটের সকল অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। অদৃশ্য কারনে সেই সিদ্ধান্ত অদ্যবধি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাটের পুরো জমি স্থানীয় টাউট ও দখলবাজদের দখলের শিকারে পরিনত হয়।

ঐ হাটের ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের, বই ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান, তেল ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী প্রতিমাসে ৪ শত টাকা ভাড়ার বিনিময়ে স্থানীয় রবি লালের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন সরকারী জমির উপর নির্মিত দোকানঘর।

এছাড়াও দখলবাজ সিদ্দিকুর রহমানের কাছে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা ভাড়া বিনিময়ে টিনের ব্যবসা করছেন আব্দুল আজিজ মিয়া। এমনি ভাবে প্রায় অর্ধশত অবৈধ্য স্থাপনা তৈরি করে দখলবাজরা জমি দখল করে ভাড়া আদায় করছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। আর দখলবাজদের জন্য ঐ হাটে সরকারী ভাবে বন্দবাস্ত নেয়ার কোন সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীরা দখরবাজদের হাত থেকে হাট উদ্ধার করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

দখলবাজ রবি লাল জানান, জমি আমার দখলে থাকায় ভাড়া আদায় করছি। এই ভাড়ার টাকা বিভিন্ন স্থানে বন্টন করা হয়। তবে কারা এই টাকার ভাগ নেন, তাদের নাম তিনি প্রকাশ করেন নি।

হাজীগঞ্জ হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, দখলবাজদের কারনে হাটের জৌলুস ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তিনি একাধিকবার আবেদন করেও উচ্ছেদের অভিযান চালাননি উপজেলা প্রশাসন। ভাদাই ইউনিয়ন ভুমি অফিসের উপ সহকারী ভুমি কর্মকর্তা (তহশিরদার) মনোরঞ্জন রায় জানান, ঐ হাটের বিষয়ে অনেক নথি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

আদিতমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) দায়িত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খান জানান, বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

◷ ৮:৪২ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর