মধ্যরাতে ঘুমন্ত স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে দুই কান কেটে দিয়েছে সন্দেহবাতিক এক পাষণ্ড স্বামী

১২:০৫ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ আন্তর্জাতিক, নারী, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক আপডেট ডেস্ক-

গত ১৯ জানুয়ারি আফগানিস্থানের একটি প্রদেশে এক বর্বর স্বামী তার ২০ বছর বয়সী স্ত্রীর নাক কেটে নিয়েছিলো। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক আফগান স্বামী তার ২৩ বছর বয়সী স্ত্রীর দুই কান কেটেছে নির্দয়ভাবে ।

আফগানিস্তানে বসবাসরত এক গৃহবধূর হাত-পা বেধে দুই কান কেটে দিয়েছে তার সন্দেহবাতিক স্বামী। প্রচুর রক্তক্ষরনের পর জরিনা নামের ঐ গৃহবধুকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করায় স্থানীয়রা। বর্তমানে আফগানিস্তানের বলখ প্রদেশের বাসিন্দা জরিনা এখন  হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং তার অবস্থা বর্তমান স্থিতিশীল।

হাসপাতালে চিকিতসকদের টানা পরিশ্রমে কোনমতে বেঁচে যাওয়া জরিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে উঠে এসেছে পাষণ্ড স্বামীর এমন নৃশংসতার চিত্র।

এমন  ভয়াবহ কান্ডের উপযুক্ত ও দৃস্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করে জরিনার স্বজনেরা জানিয়েছেন, জরিনার স্বামী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ছোট-খাটো ব্যপারে সন্দেহ করতেন এবং তুলকালাম ঘটাতেন। কিন্ত্য এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটাবেন এটা ঘুর্নাক্ষরেও ভাবেননি তারা। এমন আশংকা থাকলে অনেক আগেই হয়তো তাদের মেয়েকে নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসতেন তারা।

jorina-house-wife-afganista

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে জরিনা  জানিয়েছে, কোনো ধরণের উসকানি ছাড়া তার স্বামী হঠাৎ করে তাকে ঘুম থেকে তুলে হাত পা বেধে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটায়। তার স্বামী পলাতক রয়েছে। জরিনা বলেন, আমি কোনো পাপ করিনি, আমি জানি না আমার স্বামী কেন এমন করল?

গনমাধ্যম বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ২৩ বছর বয়সী জরিনা বলেছেন, তার কোনো ধারণাই নেই স্বামী কেন এমন নৃশংসতা করেছে তার সঙ্গে।

নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জরিনা জানায়, মাত্র ১৩ বছর বয়সে  তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই  স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। তার মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে দিত না তার স্বামী।  তার স্বামীর সন্দেহবাতিকতার কথা জানিয়ে জরিনা বলে, আমার মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সে আমার বিরুদ্ধে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলার মিথ্যা অভিযোগ তুলত।

পাষণ্ড ওই স্বামীর সংসার করার আর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছে জরিনা।