সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে তিসি চাষ : কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

১২:২৫ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার চরাঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে ব্যপক হারে তিসি চাষ করা হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

tisi-cash

তিসি একটি তেল ও আঁশ উৎপাদনকারী গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। তিসি বীজের উপকারীতা অনেক। যেমনঃ হজম বাড়ায়, ত্বক সুন্দর করে, কোলোষ্টরোল কমায় এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ে ইত্যাদি। তিসিবীজ পুষ্টি সম্পন্ন খাবার। এ অঞ্চলে বাদামী ও হলুদ রঙের তিসি চাষ করা হয়। তিসি গাছ ৩০ থেকে ৮০ সেন্টি মিটার উচু হয়।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মকবুল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তিসির মুল কান্ড সুস্পষ্ট এবং শিকড় খাড়া হয়। এর প্রতিফুলে নীল, সাদা অথবা হালকা গোলাপী রঙের পাচঁটি পাপড়ি থাকে। তিসির ফুল ভোর বেলায় ফোটে সন্ধ্যায় ঝড়ে যায়। এর চকচকে উজ্জল চ্যাপটা বীজ বাদামী ও হলদে হয়। কান্ডের বাকল বা ছাল থেকে আশঁ তৈরী করা যায়। দো আশঁ ও কাদামাটিতে তিসি ভাল হয়। বীজ বপনের ১‘শ দিন পর আশঁ সংগ্রহ ও বীজ তোলা যায়। পশু খাদ্য তৈরীতে তিসির ব্যবহার ব্যাপক। আশ্নিন-কাত্তিক মাসে তিসির বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। আর ফাল্গুন চৈত্র মাসে তা পাকে।

তিসি উৎপাদনে খরচ কম হওয়ায় চাষিরা খুবই আগ্রহী হয়। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক কোনো বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পরতে হয়নি। ফলে ব্রম্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদের অববাহিকায় ও বিস্তৃর্ণ চর সমূহে তিসির ব্যাপক চাষা করা হয়েছে। কিছুদিন পর কৃষকরা মাঠ থেকে ফসল কাটা ও মারাই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। উলিপুরের মুসার চর, মশালের চর, মতুয়াতলী, বানাডোবা, আক্কেল মামুদ ও কর্পুরাচর বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে ক্ষেতের পর ক্ষেত তিসির বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকের মুখে হাসি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আউশ ধান কেটে কৃষকরা শীতকালীন এ ফসল চাষ করেন। নুনখাওয়ার চরকাপনা গ্রামের কৃষক জরিপ উদ্দিন ও শমসের আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ তিসির ফলন হয়।

সরেজমিন যাত্রাপুর হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন প্রতিমন তিসি ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। কৃষকরা জানান, তিসি চাষে সাধারণত জৈব সার বেশী ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া তিসি শীতকালীন ফসল হওয়ায় রোগ বালাই ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণ তেমন একটা হয় না। ফলে কম খরচে আশাব্যঞ্জক উৎপাদন করা যায়।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, নাগেশ্বরী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে তিসির চাষ বেশী হয়ে থাকে। এ বছর তিসির আবাদ ভাল হয়েছে। রোগ-বালাই না থাকায় ও অনুকুল আবহাওয়া থাকায় চলতি রবি মৌসুমে তিসি চাষীরা প্রত্যাশিত ফলন পাবেন বলে আশা করা যায়। ফলে কৃষকদের মুখে এখন খুশির ঝিলিক পরিলক্ষিত হচ্ছে।