দুর্নীতির মামলায় আদালতে খালেদা, বিচারকের প্রতি অনাস্থা

১:২৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর – বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা দিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনে বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী বিশেষ আদালতে হাজির হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদ্দারের আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন না জানিয়ে বিচারকের প্রতি অনাস্থা দেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এর আগে সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিটে গুলশানের ফিরোজা বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ১১টা ২৫ মিনিটে আদালত প্রঙ্গনে পৌছেঁন।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ শুনানি করেন। আত্মপক্ষ শুনানিতে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর তিনি আদালতে একটি লিখিত বক্তব্য দেন। ওইদিন তার বক্তব্য শেষ হয়নি।

khaleda mamla adalot

গত ২৬ জানুয়ারি অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি মামলার দুই আসামি প্রাক্তন এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আত্মপক্ষ শুনানি করেছেন।

এর আগে গত সোমবার খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে সময়ের দাবি করেন। আদালত এতে রাজি হয়ে দুই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির প্রধান আসামি খালেদা জিয়া।

চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিলো। এক ডিসেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে শুরু করেন তিনি। তবে এরপরের দুই ধার্য দিনে আবেদন জানিয়ে এক সপ্তাহ করে সময় বাড়িয়ে নেন। সর্বশেষ ১৫ ডিসেম্বর অনুপস্থিত থাকায় ২২ ডিসেম্বর খালেদাকে হাজির থাকার নির্দেশ দেন আদালত। অন্যথায় তার জামিন বাতিল হবে বলেও জানানো হয়।

অন্যদিকে অরফানেজ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদকে আসামিপক্ষের জেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’র নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়। যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।