তাড়াশে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

২:১২ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ দেশের খবর, রাজশাহী

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: চলনবিল অধ্যাসিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা জুড়ে সরিষার হলুদ ফুল ঝড়ে যাওয়া পর এখন পাকা সরিষায় একাকার হয়ে গেছে। আর এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটছে হাসির ঝিলিক।

taras

সরেজমিনে দেখা যায়, এ বছর তাড়াশ উপজেলার মাঠে মাঠে সরিষার আবাদ হয়েছে। আর বাম্পার ফলনের পিছনে পোকার আক্রমণ থেকে সরিষা রক্ষা করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আগেই বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলে কৃষকরা জানান। আর এ কারনে চলতি বছর কোন রোগ-বালাই না হওয়ায় প্রতি বিঘা মিতে ৪-৭ মন হারে সরিষার ফলন হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলন বিলাঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তাড়াশ উপজেলায় এ বছর তাড়াশ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল।

জানা যায়, এক সময় চলন বিলের কৃষকরা শুধু ইরি-বোরো এক ফসলী আবাদ করে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত রাখত। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এ অঞ্চলের কৃষকদেরও বুদ্ধির বিকাশ ঘটেছে। তারা বিগত দেড় যুগ ধরে ইরি-বোরো, আমন, ভূট্টা, তরমুজ ও সরিষার আবাদে ঝুঁকেছে। গত কয়েক বছর ধরে বন্যার পানি কম ও দ্রুত পানি মাঠ থেকে নেমে যাওয়ার ফলে সরিষার আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে বলে অনেক কৃষক জানান। তবে এ বছরই একটু ব্যাতিক্রম ঘটেছে সরিষার বীজ বোপন করতে।

তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ৬ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি কিন্তুু চলনবিলের পানি প্রবাহের মুখে প্রভাবশালীরা অবৈধ সূতি জাল ধরায় বিলের পানি সঠিক সময়ে না নামায় অনেক দেরিতে সরিষা বীজ রোপন করেছি।

ধাপতেতুলিয়া গ্রামের কৃষক সোহেল রানা জানান, এ বছর ২০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি পোকার আক্রমন না থাকায় আশা করছি ফলনও ভাল হবে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ বছর কৃষককে সরিষা চাষে ব্যাপক সচেতন করা হয়েছে। সরিষা চাষের পদ্ধতি ও পোকার আক্রমন হলে কি করনীয় সে বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করেছেন। তাছাড়া কর্মকর্তারা সব সময় মাঠে থেকে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন প্রতিনিয়ত। তাছাড়া সরিষার কোন রোগ-বালাই না হওয়ায় ও আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক বাজারে বেশী দামে বিক্রী করছেন। এতে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।