রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

৪:১৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ Breaking News, ফিচার

সিলেট প্রতিনিধি- সিলেটে বহুল আলোচিত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে পৃথক চারটি ধারায় মোট ১৪বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদেরকে চারটি ধারায় ১০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় ঘোষণা করেন।

ragib-abdul_high-sylhet20170202152209আদালতের পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, আদালত প্রত্যেককে ৪৬৬ ধারায় ৬ বছর ও ৪৬৮ ধারায় ৬ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া ৪২০ ও ৪৭১ ধারায় প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৪ বছর করে প্রত্যেককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আদালত রাগীব আলী ও তার ছেলেকে চারটি ধারায় ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

এদিকে, রায়কে ঘিরে সিলেটের আদালতে ছিল উপচেপড়া মানুষের ভিড়। সকাল থেকেই মানুষজন আদালত প্রাঙ্গনে ভিড় জমান। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল ১১টা ৩ মিনিটে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) একটি প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে।

প্রসঙ্গত, তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে রাগীব আলী ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে এ বাগান দখল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি এবং সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেন।

গতবছর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় লুকিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টার ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেফতার হন রাগীব আলী। ওই দিনই তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের মধ‌্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।