সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধুলোয় ঢাকা পড়েছে রাসিকের রোড সুইপিং ভেহিকেলটি

৬:৩০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ দেশের খবর, রাজশাহী

dsf


রাজশাহী প্রতিনিধি:

ধুলোয় ঢাকা পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) রোড সুইপিং ভেহিকেল। কোটি টাকায় কেনা এ যন্ত্রটি নগরীর রাস্তায় নামানো হয় ২০১২ সালের ১ এপ্রিল। তবে তা শুরু থেকেই আসেনি কাজে। অত্যাধুনিকত এ যানটির ঠাঁয় এখন রাসিকের অ্যাসফাল্ট প্ল্যান্টে।

রাসিক সূত্র জানিয়েছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্টিপ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হয় এ যান। প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪০ বছর পর রাসিক পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে প্রবেশ করে। বেশ ঘটা করেই তৎকালীন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ২০১২ সালের ১ এপ্রিল রাস্তা সুইপিং ভেহিকেল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সুইপিং ভেহিকেলটি পানি ছিটিয়ে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করবে। এই যানটি ২ টন আবর্জনা ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভেহিকেলটিতে পানি থাকবে ১ হাজার ৭শ লিটার। পানি ছিটিয়ে রাস্তাও পরিষ্কার করবে। তবে উদ্বোধনের কদিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই রাত্রিকালীন আবর্জনা অপসারণ পদ্ধতি চালু করে রাসিক। তখন থেকেই এ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রাতেই রাস্তা ঝাড়– দিয়ে আসছেন। আধুনিক সুইপিং ভেহিকেলটি সচল থাকলে এ কাজটি করে আসতো। রাসিকের সুইপিং ভেহিকেলটির চালক ছিলেন সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই এর যান্ত্রিক ত্রুটি ছিলো। ফলে পরিচ্ছন্নতা কাজ না হওয়ায় পরে তা আর রাস্তায় নামানো হয়নি। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাসিকের পরিবহণ শাখার সহকারী প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ বলেন, ওই যান দিয়ে রাজশাহীর রাস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এছাড়া এটি তুলনামুলক ব্যয় বহুল। ফলে সুইপিং ভেহিকেল চালিয়ে যাওয়া রাসিকের পক্ষ সম্ভব হয়নি।

রাসিকের অ্যাসফাল্ট প্ল্যান্টে গিয়ে দেখা গেছে, ধুলায় ঢাকা পড়ে আছে সুইপিং ভেহিকেলটি। সেখানকার নৈশ্য প্রহরী অজিত রায় জানান, প্ল্যান্ট চললে এটি পুরোটাই ধুলোয় ঢেকে যায়। বছরে তিন-চারবার করে পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া ইঞ্জিন চালু করেও দেখা হয়। তবে পরিষ্কারের কাজে রাস্তায় নামানো হয়নি। তিন বছর ধরে তিনি এখানে কর্মরত। এমনটিই দেখে আসছেন শুরু থেকেই। পড়ে থেকেই এমটি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

২০১২ সালের ৬ আগস্ট রাসিকের সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নগরীর নওদাপাড়ায় অ্যাসফাল্ট প্ল্যান্ট চালু হয়। ২৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্ল্যান্টে অ্যাসফাল্ট পেভার, পে-লোডার, টায়ার রোলার, বিটুমিন ডিস্ট্রিবিউটর, হাইড্রলিক ড্যাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। চালুর পর থেকেই এখানে এসে ওঠে রাসিকের একমাত্র সুইপিং ভেহিকেলটি। এর আগে সেটি ছিলো নগরীর শালবাগান এলাকায় অবস্থিত রাসিকের গ্যারেজে।

রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রেয়াজত হোসেন বলেন, রোড সুইপিং ভেহিকেল রাসিক অনুদান হিসেবে পেয়েছে। তবে যান্ত্রিক ও কারগরী ত্রুটির কারণে একটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এর ট্রাকটি ডাম্পিং ট্রাক হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবছে রাসিক। কিন্তু এনিয়ে এখনো নীতিগত স্বীদ্ধান্ত হয়নি।