স্টোনহেঞ্জঃ রহস্যময় এক বিস্ময়কর পুরাকীর্তি!(শেষ পর্ব)

৭:২১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৭ জানা-অজানা

স্টোনহেঞ্জ

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

আনুমানিক ২০০ বছর পর স্টোনহেঞ্জের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকালে মাটির বাঁধানো পূর্ব দিকের প্রবেশপথটি বিস্তৃত করা হয় এবং নিখুঁত নির্মাণকার্য দ্বারা অ্যাভন নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ নিখুঁত কাজের মধ্যে ছিল সমান্তরাল বাঁধ ও পরিখাগুলো। ওই স্থানের কেন্দ্রস্থলে ২টি নীল পাথর বসানো হয় বৃত্তাকারে। এ নীল পাথরগুলো সাউথ ওয়েলসের পেনব্রোক্ষশায়ার অঞ্চলের প্রিস্লি পর্বতমালা থেকে আনা হয়েছিল।

তৃতীয় পর্যায়ের নির্মাণকার্য শুরু হবার সময় সমগ্র স্মৃতিসৌধ নতুনভাবে বিন্যস্ত করা হয় এবং এ অঞ্চলের উত্তরদিকে অবস্থিত মার্লবুরো ডাউন্স থেকে প্রায় ৮০টি বিরাট সারসেন পাথরের ব্লক আনা হয়। ক্রমান্বয়ে ৩০টি সম্পূর্ণভাবে খাড়া স্তম্ভকে বৃত্তাকারে নির্মাণ করা হয়।

১৭০০ শতাব্দীতে ঐতিহাসিকেরা দাবি করলেন, স্টোনহেঞ্জ সেলটিক ধর্মযাজকদের নির্মিত। এঁদের বলা হয় ড্রুয়িদ। অসম্ভব রহস্যময় এই যাজকদের অলৌকিক নানা শক্তি ছিল । তবে তাঁদের নিয়ে তেমন কোনো তথ্য ছিল না কারও কাছেই। সে সময়ের একজন স্থাপত্যবিদ ইনিগো জোনস বললেন, রোমানদের কথা। আবার প্রত্নতাত্ত্বিক ইলিয়ট স্মিথ স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের কৃতিত্ব দিলেন মিসরীয় বা ফিনিশীয়দের।

১৮০৮ সালে ইংরেজ প্রত্ন সংগ্রাহক স্যার রিচার্ড কোল্ট হোয়ার স্টোনহেঞ্জের চারপাশের প্রাচীন কবরগুলো থেকে ব্রোঞ্জের অস্ত্রশস্ত্র, সোনার অলংকারসহ হাড়ের স্তূপ খুঁজে পান। সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে এই নির্মাণ বহিরাগতদের করা। আবার কেউ বললেন, মাইসিনে যোদ্ধারা স্থানীয় বাসিন্দাদের দিয়ে বানিয়ে নিয়েছেন স্টোনহেঞ্জ। তবে কার্বন-১৪ ডেটিং পদ্ধতি দ্বারা প্রমাণিত হয়, স্টোনহেঞ্জ বানানো হয়েছে মাইসেনিয়ান যুদ্ধের ৫০০ বছর আগে।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঐতিহাসিকেরা স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের তিনটি সময়কাল তৈরি করেন। প্রথম ধাপটি প্রাগৈতিহাসিক যুগের চেয়ে এক হাজার বছর আগের। দ্বিতীয় ধাপটি খ্রিষ্টের জন্মের দুই হাজার বছর আগের। আর শেষ ধাপটি খ্রিষ্টের জন্মের এক হাজার ৯০০ বছর পরের। তিনটি ধাপে স্টোনহেঞ্জের নির্মাণকাজ পুরো সম্পন্ন করা হয়।

আশ্চর্য ব্যাপার হলো, এ নির্মাণের কোনো ভাঙা কিংবা ভগ্নদশার টুকরো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ধারেকাছে। ধারণা করা হয়, স্টোনহেঞ্জকে হয়তো একটি পবিত্র স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

১৭৪০ সালে উইলিয়াম স্টুকলে একে ড্রুয়িদদের প্রার্থনার ঘর হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৮৪০ সালে এডওয়ার্ড ডিউক একে শনি গ্রহের কক্ষপথের সঙ্গে তুলনা করেন। বহু বিশেষজ্ঞ একে প্রাচীন জাদুর কেন্দ্র হিসেবেও বর্ণনা করে গেছেন। ১৯০১ সালে স্যার নরম্যান লকার ও ১৯৬৩ সালে জেরাল্ড হকিনস একে কম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করেন!

২০০৮ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উল্লেখ করেন, এটি প্রাচীন একটি সমাধিস্থল। খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগে এর প্রথম খননকাজ শুরু হয়। এর পর থেকে ৫০০ বছর ধরে এখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি করা হয়।

১৯৮৬ সালে ইউনেসকো স্টোনহেঞ্জকে  ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে  স্বীকৃতি দেয়। অনেক দর্শনার্থী ভিড় করে এই স্টোনহেঞ্জ নামক রহস্যময় বিস্ময়কর পুরাকীর্তিতি দেখার জন্য। দর্শনার্থীদের কাছে অপার এক সৌন্দর্যের নাম এই স্টোনহেঞ্জ ।  কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কাছে গবেষণার ও রহস্যের জালে আটকে থাকা এক অদ্ভুত  নাম স্টোনহেঞ্জ।

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও ব্লগ।

আগের পর্ব পড়তে চাইলেঃ http://www.somoyerkonthosor.com/2017/02/01/92549.htm