‘অভাব ঘোচাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে নারীরা’

৩:১৯ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

fsd


কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

স্বামীর সাথে রাগারাগির কারণে কয়েক বছর ধরে মেয়েকে নিয়ে মায়ের বাড়িতেই থাকছেন সাবিনা ইয়াসমীন। এরপর থেকে স্বামী কোন খোঁজখবর রাখে নি। ৬বছর বয়সী মেয়ে মাহাজেবিন আরা মুসকানকে কিছুদিন আগে ভর্তি করিয়েছেন স্কুলে।

মেয়েকে নিয়ে এখন যত স্বপ্ন মা সাবিনার। তাই এখন নিজের ও মেয়ের দৈনন্দিন খরচ জোগাড় করতে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সেলাইয়ের। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় তিনমাস ব্যাপী সরকারিভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কাপড় সেলাই ও নকশার কাজ শিখছেন সাবিনাসহ ৩০জন নারী। সবারই উদ্দেশ্য একটাই-নিজেদের স্বাবলম্বী করা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কথা হয় তাদের সাথে। সাবিনা ইয়াসমীন বলেন,‘স্বামী খোজখবরও নেয়না,খরচও দেয় না।তাই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই কাপড় সেলাইয়ের দোকান দিব বলে ঠিক করেছি। এতে মেয়ের লেখাপড়ার খরচে সমস্যা হবে না। আমার এখন সব স্বপ্ন মেয়েকে নিয়েই।’ সাবিনার মতো যেন বিয়ের পরে স্বামীর উপর নির্ভর না করতে হয় এজন্য আগে থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান শাহনাজ পারভীন। অনার্স ১ম বর্ষে পড়ার পাশাপাশি সেও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সেলাইয়ের। শাহনাজ বলেন,‘বিয়ের পরে পরিবারে যাতে অভাব না আসে।এজন্য আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছি।

আমারও স্বপ্ন নিজে কাপড় সেলাইয়ের দোকান দিব।আমার দোকানে অন্য মেয়েদের কাজ করার সুযোগ দিব।’ আর ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করা আলেয়া বেগম জানালেন,এখন ঋণ নিয়ে দোকান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন,‘আর কয়েক মাসের মধ্যে আমি নিজে দর্জির দোকান দিব।আমার এক ছেলে ডিগ্রীতে পড়ছে আর মেয়ে এইচ.এস.সিতে। তাদের দু’জনের পড়ালেখার খরচে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয় এজন্যই প্রশিক্ষণ নিয়ে দোকান দিচ্ছি।তাছাড়া পরিবারে টাকার কোন সমস্যাও হবে না।’

এই কর্মসূচির প্রশিক্ষক ফেন্সী বেগম জানান,অনেক হতদরিদ্র নারীই প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন দোকান দিয়েছে কাপড় সেলাইয়ের। আর এতে তাদের পরিবারের অভাব দূর হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এবিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাকিনা বিনতে শরীফ বলেন, ‘নারীরা এখন আর ঘরে বসে থাকতে চায় না।নিজেরা কাজ করে স্বাবলম্বী হতে চায়। আমরা সরকারীভাবে শুধু নারীদের প্রশিক্ষণই দিচ্ছি না।প্রশিক্ষণ শেষে কেউ যদি ঋণ নিয়ে নিজে কর্মসংস্থান করতে চায় সেই সুযোগও করে দিচ্ছি।’