• আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে:রাষ্ট্রপতি

৬:০০ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে তার দেশের সংগ্রামী জনগণ ও সরকারকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় তিনি অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের বাধা কাঠিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

filistin president m. abbas

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিন ও আরব ভূখণ্ডে অবৈধভাবে দখল ও বসতি স্থাপনের নিন্দা জানায়। আমরা ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই।’

“বঙ্গবন্ধু সবসময় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ন্যায্য অধিকারের প্রতি জোর সমর্থন দিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দানকারী প্রথমদিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গর্বিত।” রাষ্ট্রপতি ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়াত ইয়াসির আরাফাতের আমৃত্যু সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালের ১৬ নবেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। সে বছরই নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় ফিলিস্তিন। একই সময়ে ভারত, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সৌদি আরবও স্বীকৃতি দেয়

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সকল সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়। এছাড়া বাংলাদেশ ফিলিস্তিন ও আরব ভূমিতে ইসরায়েলি অবৈধ দখল ও ইহুদি বসতির নিন্দা জানায়।

দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা বলতে গিয়ে আবদুল হামিদ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফিলিস্তিনিদের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়াত ইয়াসির আরাফাতের আমৃত্যু সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ আরবি ভাষায় প্রকাশ করায় ফিলিস্তিন সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফিলিস্তিনের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ অব্যাহত রাখবে। ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি আশা করেন, ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, সাক্ষাতে মাহমুদ আব্বাস বিভিন্ন ইস্যুতে তার দেশকে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানান। মাহমুদ আব্বাস তার দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে বৃত্তির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে।

সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিআবদুল হামিদ তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে এই সাক্ষাতের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ এন এ মালিকি, প্রধান বিচারপতি মাহমুদ এস এ আলহাব্বাস। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সম্মানে একটি নৈশভোজও দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।