সাংবাদিক শিমুলের মৃত্যু: মেয়রের ছোট দুই ভাই গ্রেপ্তার, শটগান জব্দ, মামলা দায়ের

৬:৪৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

সিরাজুল ইসলাশ শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ দৈনিক সমকাল-এর স্থানীয় প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল মারা গেছেন। শুক্রবার বেলা একটার দিকে বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় শাহজাদপুর উপজেলা ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার আহত হওয়ার পর আবদুল হাকিমকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার তাঁকে সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিল। পথে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা একটার দিকে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের সমর্থকরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়ি ঘেরাও করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গুলিতে আহত হন সাংবাদিক শিমুল।

এদিকে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে শাহজাদপুর উপজেলায় কাল শনিবার অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে উপজেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল পালনে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করার পর ছাত্রলীগ এই হরতালের ঘোষণা দেয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ কাজল বলেন, মেয়রের শর্টগানের গুলিতে সাংবাদিক হত্যা বিজয়কে মারধরের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শনিবার উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ হরতালে সমর্থন জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাংবাদিকেরা।

press-death-milon

প্রসঙ্গত, শাহজাদপুর উপজেলার দিলরুবা বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার টেন্ডার হলেও ঠিকাদার দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ শুরু করছে না। স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদ ঠিকাদারের বিপক্ষে কথা বলায় মেয়রের লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়।
এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয়কে মেয়রের বাড়ির পাশে কালীবাড়ী মোড় থেকে তুলে নিতে যায় মেয়রের ভাই হাসিবুল হক পিন্টু ও মিন্টুসহ একদল সন্ত্রাসী।

বিজয় দৌঁড় দিলেও ইব্রাহীম সরকারি বিদ্যালয়ের কাছ থেকে বিজয়কে তুলে নিয়ে মেয়রের বাড়ীতে নিয়ে মারপিট করে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। এ খবরছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের গ্রামের বাড়ী কান্দাপাড়া এলাকার লোকজন ও ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ নেতারা নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে। বিজয়ের সমর্থনে মহল্লার লোকজন ও আওয়ামী লীগের একাংশ এবং কলেজের ছাত্ররা এক জোট হয়ে বেলা তিনটার দিকে মেয়রের বাড়িতে হামলা চালান।

এ সময় মেয়র ও তার ভাইয়েরা মিছিলকারীদের উপর ককটেল ও বোমা নিয়ে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তার নিজ শটগান থেকে গুলি ছোড়ে। এতে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের মাথায় গুলি লাগে। আহত হন বেশ কয়েকজন।

আবদুল হাকিম শিমুলকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়।

শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি বলেন, মেয়র মিরুর ছোট ভাই পিন্টু আমার শ্যালক বিজয় মাহমুদের ওপর হামলা করে কালিবাড়ি এলাকায়। তারা তার হাত-পা ভেঙ্গে দেয়।তাকে ঢাকা অর্থপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু বলেন, পিন্টু ও বিজয়ের মধ্যে মারামারির কিছুক্ষণ পর ভিপি রহিমের লোকজন লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গুলিবর্ষণ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমিও বাড়ির ভেতর থেকে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করি।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে মারধরের ঘটনায় পৌর মেয়রকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। শাহজাদপুর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধরের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরু, তার ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই মেয়রের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি মেয়রের শটগান জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।