সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে: রিজভী

৩:৫১ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রভুদের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তাকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকের পরিদর্শন কি অজানা চুক্তির বর্হিপ্রকাশ?

শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। ভারতীয় হাই কমিশনারের সারদা পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন নিয়ে তিনি এ অভিযোগ তুলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এটি কীসের আলামত? দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছেন বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি দেশের কূটনীতিকরা। সরকার নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য দেশের সমর্থন নিতে গিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পরিণতি এখন বিষম দুর্বিপাকের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে আমাদের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী দেশের এক্সটেনশনে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার জন্য নানা উপহারে ভূষিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রাচারের প্রকরণ অমান্য করে। আর এর বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হচ্ছে লবডঙ্কা।’

rizvi

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত দ্রব্যসহ ৬টি পণ্য রপ্তানি হতো। একতরফাভাবে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ভারতে পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়ছে। গত ৫ জানুয়ারি ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আটকে গেছে। এটি নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। উল্টো সরকার হাজার হাজার কোটি ব্যয় করে সড়ক মহাসড়ক তৈরি করে প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনে সুবিধা করে দিচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘মোংলা ঘসিয়াখালি নৌরুট দিয়ে যাতে ভারত সহজে পণ্য যাতায়াত করতে পারে সে জন্য গত সপ্তাহে ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এ সরকার।’

ছাত্রদের কাঁধে চড়ে জনপ্রতিনিধির হাঁটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ কী হচ্ছে? কোমলমতি শিশুদের ঘাড়ের ওপর শেখ হাসিনার মতো নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানরা সেতু তৈরি করে তার ওপর দিয়ে হেঁটে যান। কী কুৎসিত, কী কুরুচিপূর্ণ হলে পরে এটা হতে পারে।’

অন্যলদের মধ্যেয বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, এম এ মালেক, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু ও মনির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।