ধামরাইয়ে চলতি মৌসুমে ২০ টন মধু সংগ্রহ, চাষিদের মুখে হাসি

১২:২৭ অপরাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

আনোয়ার হোসেন রানা, স্টাফ রিপোর্টার: ধামরাইয়ে চলতি মৌসুমে ২০ টন মধু সংগ্রহ, চাষিদের মুখে হাসি। ঢাকার ধামরাইয়ে সরিষা ক্ষেতের ফুল থেকে মৌ চাষে লাভবান হচ্ছেন মৌ চাষিরা। কৃষি অধিদফতর জানিয়েছে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির খামার করে সহজেই মধু সংগ্রহ করা যায়।

modhu

এতে মধু বিক্রি করে কৃষকরা অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ক্ষেতে মধু চাষ করায় সরিষার ফলনও পাবেন বেশি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে মধু চাষের জন্য ৪টি ব্লকে ৭টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষ ও মধু সংগ্রহে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কোনো দুর্যোগ না এলে সরিষায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি সরিষা থেকে সংগ্রহকৃত মধু বিক্রি করে লাভবান হবেন ভ্রাম্যমাণ মৌচাক খামারিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান শিকদার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি থাকলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বাড়ে। সরিষা ফুলে মৌমাছি যে পরাগায়ণ ঘটায় তাতে সরিষার দানা ভালো হয়। এতে সরিষার ফলনও বাড়বে। যেখানে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি নেই সেখানে সরিষার ফলন কম হয়। সরিষা ক্ষেতে মধুর খামার গড়ে তোলার জন্য কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের উৎসাহ জুগিয়ে আসছে। এর ফলে কৃষক দুদিক থেকে লাভবান হবেন। সরিষা থেকে সংগ্রহকৃত মধু বিক্রি করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। পাশাপাশি সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি থাকায় সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাবে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ধামরাই উপজেলার আটিগ্রাম, ইকুরিয়া, আশুলিয়া, ভাড়ারিয়া, দীঘলগ্রামে ৪টি ব্লকে ৭টি স্থানে ৭৮৬ মৌ কলোনির (স্থানীয় নাম মধুর বাক্স) মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মৌ চাষি জামাল মৃধা জানান, দুই বছর আগে গাজীপুর বিসিকে মৌ চাষ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ধামরাইয়ের আশুলিয়ার দুই বন্ধু মিলে মধু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ৫০টি বাক্সে আটদিন পর পর ১৪০-১৬০ কেজি মধু আহরিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ৩০-৪০ হাজার টাকা। উপজেলার ইকুরিয়া গ্রামের মৌ চাষি তাহের জানান, ৪০টি বাক্স নিয়ে তিনি মৌ চাষ শুরু করেন। বিনিয়োগ করেছিলেন ১ লাখ টাকা। এখন ১০০টি বাক্স। প্রতি সপ্তাহে গড়ে সাত মণ মধু আহরণ করছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। মৌ চাষি আয়ুব জানান, ১২০টি বাক্সে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৮ মণ মধু আহরণ করছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, গত এক মাসে ২২ মন মধু সংগ্রহ করেছেন।

কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান সিকদার আরো জানান, সরিষার চাষে পাশাপাশি ৭শ ৫৬টি মৌমাছি চাষের ব্লক তৈরি করা হয়েছে। এতে ১০-১২ দিন পর পর ৩০০ কেজি মুধ সংগ্রহ করা হয়। এতে বছরে প্রায় ১৫-২০ টন মুধ সংগ্রহ করা যাবে।

সরজমিন সরিষা ক্ষেতে মধুর খামারে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার কিছুটা অদূরে সরিষা ক্ষেতের পাশেই সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে মৌমাছির বাক্স। হাজার হাজার মৌমাছি হলুদ রঙের সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করছে। ৭/৮ দিন পর পর ওই সব বাক্স থেকে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে মধু সংগ্রহ করে। প্রতি বাক্সে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মৌমাছি আর একটি মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছি ডিম দেয়। মৌমাছির নাম ‘এফিস মিলিফেরা’ জাতের মাছি। এরা মানুষের সমস্যার সৃষ্টি করে না। সারাদিন মাছিগুলো সরিষার ফুলে পরাগায়ণ ঘটায় এবং মধু সংগ্রহ করে। এতে প্রায় ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরের সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করে মাছিগুলো।