কালকিনিতে নৌকার মাঝিদের আর্তনাত


এইচ এম মিলন, কালকিনি প্রতিনিধি: নদীতে পানি ভরা মৌসুমেও মোগো না খাইয়া থাকতে হয়। আবার নদী সুখাইয়া গেলেও মোগো না খাইয়া থাকতে হয়। মোরা এহন কি করমু। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা মহাবিপদ হয়ে দাড়িয়েছে। ভিষন আক্ষেপের সঙ্গে কথাগুলো বললেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার নৌকার মাঝি মোতালেব শিকদার।

majhi

তিনি আরো বলেন, যহন নদীতে পানি থাকে তহন ইঞ্জিন চালিত যানবাহনে সবাই চলাচল করে। মোগো নৌকায় আর কেউ উঠেনা। যহন নদীতে পানি না থাকে তখন আর মোগো নৌকা চলে না। বেকার হয়ে পরিবার নিয়ে অর্ধহাড়ে দিন কাটাতে হয়। মোগো মড়ন ছাড়া সামনে আর কোন গতি দেহিনা। ভাবছি নৌকাডারে ভাইঙ্গা মাঝির কাম বাদ দিয়া দিমু।

সরেজমিন সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঐতিহ্যবাহি পালরদী নদী দিয়ে আগে বর্ষাকালে বিভিন্ন নৌকার মাঝিরা পাল তুলে মনের সুখে গান পরিবেশন করে যাত্রী নিয়ে একুল থেকে ওকুলে ভাসিয়ে নিয়ে যেতেন। তাতে করে মাঝিদের দৈনিক ২শ থেকে ৩শ টাকা রোজগার হত। তা দিয়ে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার ভালো ভাবেই কেটে যেত। আর এখন ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন যাবাহনের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে সেই পাল তোলা নৌকা। অপরদিকে শীত মৌসুমে নদীর পানি একেবারে কমে যাওয়ায় নৌকা চালাতে পারছেন না মাঝিরা। তাই দুই মৌসুমেই নৌকার মাঝিদের পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। এতে করে তাদের আয় রোজগার একেবারই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। মনে সুখে পরিববেশন করা মাঝি বাইয়া যাওরে … এ গানের সুর কোন মাঝির উচ্চ কন্ঠে এখন আর পালরদি নদীতে শোনা যায় না। অনেক মাঝিরা উভয় সংকটে পড়ে এখন নদীতে নৌকা চালানো ছেড়ে শহড় মুখি হচ্ছেন অন্য কাজে।

লক্ষিপুর এলাকার নৌকার মাঝি তাহের, মোঃ সফেল ও কেদুসহ বেশ কয়েকজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, পালরদি নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চলাচলের ফলে আমাগো নৌকায় এহন আর কেউ উঠতে চায়না। তাই ভাবছি নৌকা ভেঙ্গে চুরে চুল্য়া পুড়িয়ে দেব।

এ ব্যাপারে পখিরা এলাকার থেকে উপজেলা সদরে আশা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চালক মাহাবুব বলেন, পানি ভরা মৌসুমে আমরা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে যাত্রীদের তাড়া-তাড়ি বাড়ি পৌছে দিতে পারি। তাই যাত্রীরা ট্রলারে বেশি উঠে। নৌকায় ওঠেনা। আর এখন শীতের সময় নদীতে পানি না থাকায় আমরা নদী দিয়ে কোন প্রকার যানবাহন চালাতে পারিনা। তাই এই শীতের সময় আমাদের বেকারত্ব জীবন নিয়ে না খেয়েও দিন কাটাতে হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাম্মী আক্তার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, পালরদী নদী খনন না হওয়ায় শুধু মাঝি নয় আমাদের সবার নানা মুখি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই পালরদি নদীর ঐতিহ্য ও নৌকার মাঝিদের অস্থিত্ব রক্ষা করতে হলে নদী খনন জরুরী।

◷ ২:১১ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর