সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মসজিদে মাইক ব্যবহারের পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি ফতোয়া! যে কোন সময়ে ভয়াবহ সহিংসতার আশংকা!

২:৩৯ অপরাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৭ আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

প্রকাশ্যে রুপ নিচ্ছে ধর্মীয় বিদ্বেষ। বিপাকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। যে কোন সময়ে ভয়াবহ সহিংসতার আশংকা। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজরদাড়ি কামনা।

সময়ের কণ্ঠস্বর, কক্সবাজার, পটিয়া প্রতিনিধি-

গত কয়েক দিনে কক্সবাজারের পটিয়া উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নসহ একাধিক এলাকায় মসজিদে মাইক ব্যবহার নিয়ে নানা ফতোয়া ও কটূক্তির পাল্টা-পাল্টি অভিযোগে স্থানীয় সাধারন মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে ।

মসজিদে মাইক ব্যবহারকে একদল বলছে  ‘জায়েজ’ অন্যদল আবার মাইক ব্যবহারকে ‘নাজায়েজ’ আখ্যা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শে পার্থক্য বুঝাচ্ছেন স্থানীয় ধর্মপ্রান মুসলমানদের।  দু-পক্ষের এমন টানা-হেচড়া নিয়ে দারুন বিপাকেই পড়েছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার জের ধরে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষেরাই    বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে এই বিভক্তি প্রকাশ্য দলাদলিতে রুপ নিয়েছে।

সচেতন মহল আশংকা করছেন, এমন মতপার্থক্য আর দলাদলির ঘটনা থেকে যে-কোন মুহুর্তে জন্ম নিতে পারে ভয়াবহ কোন সহিংসতার ঘটনা।

unnamed

সরেজমিনে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কর্নফুলী, চরপাথরঘাটা, খোয়াজনগর, ইছানগর, চরলক্ষ্যা,শিকলবাহা সহ অনেক এলাকায় ধর্মপ্রান সাধারন  মুসল্লীরা এই ঘটনায় শংকিত। যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের মারামারি বা গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট হতে পারে বলে আশংকা করছেন তারা ।

পাল্টাপাল্টি  সমাবেশ থেকে  ভিন্ন ভিন্ন ব্যখ্যা আর  তর্ক বিতর্কে সরল ধর্মপ্রান সাধারণ মুসল্লীরা পড়েছেন বেকায়দায় 

গত ২৯শে জানুয়ারী খোয়াজনগরের আজিমপাড়া পোস্ট অফিসের সামনে এস আলম মাঠে ‘আলত্বাফুল বারি খেদমত কমিটি’ নামক একটি সংগঠন তাদের  ব্রিজঘাট শাখার উদ্যেগে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে সগঠনটির বক্তারা মাইক ছাড়াই তাদের বক্তব্যে জানায়, ‘ইসলামে মাইক ব্যবহার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ এবং কুফরী  কাজ’  । সমাবেশে ‘আলত্বাফুল বারি খেদমত কমিটি বাংলাদেশ’ সংগঠনটির বক্তারা চ্যালেন্জ করে ঘোষণা দিয়ে বলেন , ‘ যদি  ইসলামে মাইক ব্যবহারকে কেও জায়েজ’  বলে ফতোয়া দেয়  এবং তা  সরাসরি মোকাবেলা করে প্রমান দিতে পারে তবে তাকে  নগদ এক কোটি টাকার পুরস্কার  দেয়া হবে।

অন্যদিকে একই দিনে ব্রিজঘাটে ঐ সমাবেশের কিছু দূরেই ‘সুন্নী জনতা’ নামক  অন্য আর একটি সংগঠন স্থানীয় গাউসিয়া কমিটির উদ্যোগে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করে। সমাবেশে সুন্নী মাওলানারা ‘ইসলামে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং কুফরী  কাজ’ এমন মন্তব্যের  কড়া সমালোচনা করেন।

সমাবেশে সুন্নী আলেমেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ মসজিদের মাইকে কখনো গান বাজনা হয়না, মসজিদের মাইকে আল্লাহ রাসুলের নাম নেওয়া হয়, এতে যাদের সমস্যা হয় তারা কোনদিন মুমিন হতে পারেনা ‘।

‘আলত্বাফুল বারি খেদমত কমিটি বাংলাদেশ’  এলাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে  মাইক ব্যবহারকে  শিরকে আকবর বা হারামে আকবর বলে প্রচার করছেন,  এছাড়াও  দোকানে দোকানে ডিজিটাল ব্যানার টাঙ্গিয়ে মানুষের মধ্যে ইসলাম নিয়ে মত পার্থক্য গড়ে তুলছেন  বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা ।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে শিকলবাহার হাফেজ করিম জানান, ‘ আল্লাহ এক, কোরআন ও এক এবং নবী সাঃ এক তবে এতো পার্থক্য কেনো মাওলানাদের?  মাইকে মসজিদে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নেওয়া হয় তাতে বিতর্কিতরা কি দোষ দেখে অথবা কোন হাদিসে মাইক মসজিদে নিষিদ্ধ তা আমার জানা নেই ‘ ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ বিয়ে বাড়ি বা মেজবানে মাইকে বড় বড় গান বাজানা হয় তখন কেও ফতোয়া দেয়না কেন?

চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ শাহাজান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ‘যারা ইসলামে বিতর্ক তৈরি করতে মসজিদে মাইক ব্যবহার নাজায়েজ বলে ফতোয়া দেয়, কোটি টাকার বাজি ধরে তাদের টাকার উৎস কোথায় তা খতিয়ে দেখা জরুরী।  এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কর্নফুলী থানার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে ২৭টি ধর্মীয় মসজিদ রয়েছে তার মধ্যে ৮টি মসজিদে ধর্মীয় এসব ফতোয়া আর বিতর্কিত কুসঃস্কার বলে মাইক নিষিদ্ধ রয়েছে।