• আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মেয়রের বাসা থেকে মিললো গুলির খোসা

৩:২০ অপরাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি – সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় আওয়ামী লগের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষে পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মীরুর গুলিতে আহত দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল মারা গেছেন।

গতকাল শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলের মৃত্যু হয় বলে জানান হাটিকুমড়ুল এলাকার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসক হাফিজ রহমান মিলন।

আর শিমুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই মেয়র মীরু আত্মগোপনে চলে গেছেন। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তার বেশির ভাগ সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনের। মীরুর মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

shafin-ahmed-politicks

এদিকে মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাসা থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, যে শর্টগান দিয়ে সাংবাদিক আ. হাকিম শিমুলকে গুলি করা হয়েছে এটি তারই খোসা। শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মেয়র হালিমুল হক মিরুর শর্টগান থেকেই গুলি করা হয়েছে। তার বাড়ি থেকে গুলির খোসা পাওয়া গেছে। ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ ওই শর্টগান জব্দ করা হয়েছে।’

এর আগে শিমুল হত্যার এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা কে এম নাসির উদ্দীনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোররাতে শাহজাদপুর উপজেলার ছয়আনি গ্রাম থেকে নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি তিনজনকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী কামরুন নাহার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মীরু ও তাঁর দুই ভাইসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুরে শিমুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেয়র পুলিশের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে আত্মগোপন করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

এ বিষয়ে নিহত শিমুলের ভাই আজাদ হোসেন বলেন, সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে মেয়র মীরু পরিকল্পিতভাবে শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আমরা মেয়র মীরু ও তার দুই ভাই পিন্টু ও মিন্টুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক জানান, শিমুলের মৃত্যুর পর থেকেই মেয়র মীরুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।