ভূঞাপুরে রকিবুল হত্যায় পরিকল্পনা অর্থ জোগায় আ’লীগের তিন নেতা, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

৯:৪৩ পূর্বাহ্ন | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে ভুঞাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলাম( ফরিদ) হত্যাকাণ্ডে পরিকল্পনা ও অর্থের জোগান দেন একই দলের তিন নেতা। টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত শওকত হোসেন ওরফে সৈকত আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একথা জানান।

শনিবার সন্ধ্যায় শওকতের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক রুপন কুমার দাস।

15253554_774534499361144_6676872070610768707_nটাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে ভূঞাপুর উপজেলার ভাড়ই মধ্যপাড়া গ্রামের ওয়ারেজ আলীর ছেলে শওকতকে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শওকত পুলিশের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

শওকত জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ঘটনার মাস খানেক আগে ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতা রকিবুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তারা শওকত ও তার সঙ্গীদের দুই লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অগ্রিম হিসেবে এক লাখ টাকা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর সকালে ভূঞাপুর উপাজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলামের গলাকাটা লাশ তার নিজ গ্রাম ভারই মধ্যপাড়ার একটি নির্জন পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রাত সাড়ে ৯টার পর তিনি নিখোজ হয়।

ওই দিনই রকিবুলের ভাই ফজলুল করিম বাদি হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে, ফজলুল করিম বাদি হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে আরো একটি সম্পূরক মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে।

গত ২২জানুয়ারি ভূঞাপুরের ভারই মধ্যপাড়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মাঈনুল হাসান ওরফে মাসুদকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মাসুদও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশের (ওসি) অশোক কুমার সিংহ সময়ের কন্ঠস্বর ‘কে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শওকত হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থজোগানদাতাসহ জড়িত সবার নাম বলেছেন।