ইসি গঠন : ২০টি নাম বাছাই করেছেন সার্চ কমিটির সদস্যরা


সময়ের কণ্ঠস্বর –

এই মুহূর্তে দেশবাসীর চোখ সার্চ কমিটি ও রাষ্ট্রপতির দিকে গেঁথে আছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের অন্যতম দল বিএনপি নাখোশ হলেও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তেতে ওঠেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে কারা আসছেন, সেটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার চ্যালেঞ্জ।

এদিকে কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন খোঁজ কমিটি। কোন কোন নামগুলো বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। আর রাষ্ট্রপতিই বা কাদের চূড়ান্ত করবেন। এনিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা চলছে। তবে তা হলেও সার্চ কমিটি এমনভাবে নাম বাছাই করতে চাইছে যাতে করে এ নিয়ে পরে সমস্যা না হয়। সার্চ কমিটির একজন সদস্যও যাতে বাইরে বলতে না পারেন যেসব নাম বাছাই করা হয়েছে তাতে তার মত ছিল না। কিন্তু ওই ব্যক্তিকে তিনি পছন্দ করেননি। অথবা তার নামে রিপোর্ট ভাল ছিল না। আপত্তি সত্ত্বেও নেওয়া হয়েছে। এমন কোন সুযোগ রাখতে চাইছেন না খোঁজ কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

তিনি সোমবার বিকেল চারটায় দশ নাম বাছাইয়ের জন্য বৈঠকে বসবেন। সব সদস্যকে নিয়ে। এই পর্যন্ত কমিটির চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব বৈঠকেই সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সোমবার তাদের শেষ বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ মঙ্গলবার তাদেরকে রাষ্ট্রপতির কাছে নামের সুপারিশ পাঠাতে হবে। এই জন্য খোঁজ কমিটি সোমবার সকল নাম চূড়ান্ত করে দিলে ও তাদের গত কয়েকদিনের কর্মকান্ডের ও বিশিষ্টজনের মতামতের সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য দেখে দিলে মন্ত্রিপরিষদ তা সম্পন্ন করে এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আমরা আশা করছি শেষ দিনেই এই প্রতিবেদন ও নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো সম্ভব হবে। কার্যদিবসের মধ্যে অর্থাৎ বিকেল পাঁচটার মধ্যে পাঠানো হবে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সার্চ কমিটির সদস্যরা প্রাপ্ত নামের তালিকা পর্যালোচনা করে ২০টি নাম বাছাই করেছেন। এছাড়া তাদের বিবেচনায়ও যারা যোগ্য যেসব নাম আলদা তালিকা করে রেখেছেন। সোমবার বিকেলে সবগুলো নাম উপস্থাপিত হবে আবার। এরমধ্যে এক একটি নাম বলা হবে, তার উপর আলোচনা হবে। কমিটির ছয় সদস্য ঐক্যমত হলে ও তাকে রাখতে চাইলে এবং কারও দ্বিমত না থাকলে তাকে রাখা হবে। এইভাবে ২০টি নাম বাছাই করা হবে। এর বাইরে খোঁজ কমিটির বিবেচনায় ও তাদের বিচারে যারা কমিশনে থাকতে পারেন তাদের নামও এইভাবে বাছাই করা হবে। এইভাবে দশটি নাম বাছাই হয়ে গেলে এক এক করে চূড়ান্ত করে এরপর তাদের ব্যাপারে প্রাপ্ত তথ্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। যাতে তিনি তাদের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত দেখে এরপর নিয়োগ দিতে পারেন।

sarch-kor

সূত্র জানায়, দশটি নামের বেশি নামে যদি দশজন মত দেন সেই ক্ষেত্রে যারা গ্রহণযোগ্যতা ও দক্ষতা বেশি তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দশটি নাম বাছাই করার পর সেই সব নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। কোন একটি নামের ব্যাপারে সার্চ কমিটির একজনও আপত্তি দিলে তাকে বাছাই করা হবে না। যে নামের ব্যাপারে আপত্তি উঠবে ওই নাম বাদ দেওয়্ াহবে কোন বিতর্ক ছাড়াই। তবে রাজনৈতিক দলের নাম থেকে কমপক্ষে দুইজনকে রাখা হতে পারে কমিশনে। কেউ কেউ বলছে চারজন রাখা হতে পারে। আর নির্বাচন কমিশনার হিসাবে তাদের রাখা হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নামের তালিকা থেকে নেওয়া হবে না। সেটি নেওয়া হতে পারে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনা থেকে। সাবেক কমিশনার ও বর্তমান কমিশনারদের তিনজনের একজনকে কমিশনে রাখা হতে পারে। এরমধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের নাম রাখা হতে পারে। এছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের দুইজন কমিশনারের নাম রয়েছে আলোচনায়। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী আর একজন আবদুল মোবারক। এই দুইজনের মধ্যে জাবেদ আলীকে আওয়ামী লীগ রাখতে চায় বলে নানা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, তারা তিনজনই নির্বাচন কমিশন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একজন অভিজ্ঞ কমিশনার রাখা গেলে এতে করে আগামী দিনে কাজ করতে নতুন কমিশনের অনেক সুবিধা হয় আবার ধারাবাহিকতা থাকে।

সূত্র জানায়, খোঁজ কমিটি সোমবার বৈঠক করে দশটি নাম বাছাই করলে ওই সব নাম প্রকাশ করা হবে কি হবে না তা এখনও বলা যাচ্ছে না। কারণ খোঁজ কমিটির বেশিরভাগ সদস্য নাম প্রকাশের পক্ষে। এর আগের খোঁজ কমিটি তাদের বাছাইকৃত দশটি নাম প্রকাশ করেছিল। এবারও বেশিরভাগ সদস্য নাম বাছাই চূড়ান্ত করে তাদের নাম প্রকাশের পক্ষে। এই ব্যাপারে আহ্বায়ক সিদ্ধান্ত দিবেন। তিনি গতবার নাম প্রকাশ করে ছিলেন।

◷ ৩:৫২ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়