জয়েস ভিনসেন্ট মৃত্যুরহস্যঃ মৃত্যুর দুই বছর পর নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় যার লাশ!

৮:৩৮ অপরাহ্ন | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১৭ চিত্র বিচিত্র, লাইফস্টাইল

জয়েস ভিনসেন্ট মৃত্যুরহস্য

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কন্ঠস্বর।

ব্রিটিশ নাগরিক জয়েস ক্যারোল ভিনসেন্ট মৃত্যুরহস্য পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম অমীমাংসীত রহস্যগুলির একটি। ২০০৬ সালের ২৫ শে জানুয়ারী নিজের ঘরেই পাওয়া যায় তার লাশ। লাশ না বলে সেটাকে কংকাল বলাই ভাল। কারণ উদ্ধার করার আগে তার মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে দুই বছরেরও বেশি সময়। আরও অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে ঘরে টিভি তখনো চলছিল। ধারণা করা হয় যখন তিনি মারা যান তখন তিনি টিভি দেখছিলেন। এবং প্রায় দুই বছর সময় এভাবেই টিভি চালু ছিল। কিভাবে তিনি মারা গেলেন কেনইবা দু বছর কেউ তার খোজ পেল না তা আজও রহস্য।

জয়েস ভিনসেন্ট যুক্তরাজ্যের হ্যামারস্মিথে ১৯৬৫ সালের ১৯ শে অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠেছেন ফুলহাম প্যালেস রোডের একটি বাড়িতে। তার বাবা লরেন্স পেশায় ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। তার মা লরেস ছিলেন সাধারণ গৃহিণী। তার বাবা মা দুজনই গ্রানাডার দ্বীপাঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। পরবর্তীতে তারা লন্ডনে চলে আসেন। এখানেই জয়েসের বেড়ে ওঠা।

জয়েসের বয়স যখন মাত্র এগারো বছর তখন তার মা লরেস মারা যান। এরপর তার বড় চার বোন জয়েসের বেড়ে ওঠার দায়িত্ব নেন। কিছুদিনের মধ্যেই জয়েসের সাথে তার বাবার মনোমালিন্য হয়। যার কারণে তাদের সম্পর্কের মধ্যে বড় রকমের ফাটলের সৃষ্টি হয়। একসময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জয়েসকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্ত মাত্র ষোলো বছর বয়সে কোনরকম শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ছাড়াই হাইস্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে সালে তিনি ওসিএল লন্ডনে সেক্রেটারি পদে কাজ শুরু করেন। এটাই তার জীবনের প্রথম চাকুরী ছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে অনেকবার চাকুরী পরিবর্তন করেছেন। শেষদিকে তিনি আর্নেস্ট এন্ড ইয়ং কোম্পানীতে ট্রেজারি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই কোন কারণ ছাড়াই চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন। এরপর একটা হোটেলে ক্লিনার পদে কিছুদিন কাজ করেছিলেন বলে শোনা যায়।

২০০১ সালের শুরুর দিক থেকেই পরিচিত যত বন্ধু বান্ধব ছিল সবার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন জয়েস। বাবার সাথে তো আগে থেকেই কোন যোগাযোগ ছিল না। এমনকি তার যে চারবোন তাকে বড় করেছেন তাদের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জয়েস। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন পারিবারিক সহিংসতার কারণে হয়ত জয়েস তার পরিবার থেকে দূরে থাকতে চাইছিলেন।

পারিবারিক সহিংসতার ব্যাপারটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন সূত্রমতে জয়েসের পরিবারে সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে বলে শোনা যায়। আবার, জয়েসের সাথে কোন এক যুবকের ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়। কে এই যুবক তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এই ব্যাপার নিয়েও জয়েসের সাহতে তার পরিবারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জয়েস উড গ্রীন শপিং সিটির একটা ফ্ল্যাট কিনে এখানেই বসবাস শুরু করেন। এই ফ্ল্যাটটি তিনি “মেট্রোপলিটন হাউজিং ট্রাস্ট” এর নিকট হতে কিনে নেন। ২০০৩ এর নভেম্বরে জয়েসের রক্তবমি শুরু হয়। একারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার পেপটিক আলসার ধরা পড়ে। দুইদিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এটাই তার সর্বশেষ জনসম্মুখে উপস্থিতি।

২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারী জয়েসের কংকাল উদ্ধার করা হয়। কংকালটি সোফায় বসা অবস্থায় ছিল। আর সামনে টিভি চলছিল। ধারণা করা হয় ২০০৩ এর ডিসেম্বরে মারা যান জয়েস। এরপর ওখানেই দুবছর ধরে একই অবস্থায় লাশটি ছিল। একপর্যায়ে লাশতি পচে শুকিয়ে প্রায় কংকালের আকার ধারণ করে মৃতদেহটি। “অটোমেটিক ডেবিট পেমেন্ট” সিস্টেমের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল এরকম যাবতীয় বিল পরিশোধ হয়ে গিয়েছিল দুবছর ধরে।

কিন্ত প্রশ্ন আসে কিভাবে মারা গেলেন জয়েস? আর কেনইবা সকলের থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন নিজেকে? তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন? নাকি নিছকই দুর্ঘটনা এটি? উত্তর আজও মেলেনি। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা এজমার সমস্যা এবং পেপটিক আলসারের সমস্যার কারণে টিভি দেখারত অবস্থায় মারা যান জয়েস। যাই হোক জয়েসের মৃত্যুকে ঘিরে একটি ফিল্মও তৈরী হয়েছে। “ড্রীমস অফ আ লাইফ” নামের এই ফিল্মটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে।