এক কর্মদিবসে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ৮ শিক্ষক, অযত্নে ভেঙ্গেছে শহীদ মিনার-প্রধান শিক্ষক বিএনপি সভাপতি

৩:৫৭ অপরাহ্ন | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১৭ Breaking News, দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা(নীলফামারী) প্রতিনিধি:

প্রধান শিক্ষক বিএনপি সভাপতি তাই নীলফামারীর ডিমলায় একটি বিদ্যালয়ে আট শিক্ষক অনুপস্থিত।

উপজেলার পূর্বছাতনাই আদর্শ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা পনের জন। গত শনিবার বিদ্যালয়ে কোন প্রকার ছুটির ঘোষণা ছাড়াই অনুপস্থিত আটজন। এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩শ ৫০ জন। এটি স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৩ ইং সালে। ৬ জন শিক্ষক নিয়ে এমপিও ভুক্তি আওতায় আসে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকাল হতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন। আব্দুল মতিন রাজনৈতিক দল বিএপি’র সাথে সম্পৃক্ত এবং পূর্বছাতাই ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি। আর তাই প্রধান শিক্ষকের মাথার উপড়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু কিংবা সরকার দলীয় রাষ্ট্র প্রধানের ছবি নেই।

শনিবার স্বরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চলাকালীন সময় দুপুর ১২ টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ আটজন সহকারী শিক্ষক অনুপস্থিত। অনুপস্থিত আটজন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র একজন ছুটির আবেদন করেছেন। প্রধান শিক্ষকসহ বাকী সাতজনের কোন ছুটির দরখাস্ত অথবা শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই। এবং প্রধান শিক্ষক বিএনপি সংগঠনের ইউনিয়ন সভাপতি মর্মে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি তিনি ঝুলিয়ে রাখতে নারাজ।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি সাইদুল হক সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি সভাপতি হয়েছি প্রায় এক বছর হলো। আমিও বিএনপি সংগঠনের সাথে জড়িত। তবুও প্রধান শিক্ষককে বার বার বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি লাগানোর বিষয়ে তাগিদ দেয়ার পরেও পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন আমার কথার কোন প্রকার গুরুত্ব দেননি। ভাষা শহীদের মাস ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনার দির্ঘদিন হতে তা ভেঙ্গে মুছে গেছে শহীদরে স্মৃতি শহীদ মিনারটি। সে বিষয়েও মেরামতের কোন তাগিদ নেই প্রধান শিক্ষকের।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘আমি একটি নতুন টেবিল তৈরী করতে দিয়েছি টেবিলটি তৈরী হলেই ছবি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অথচ আওয়ামী সরকার আট বছরে পা রাখলেও তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি লাগাননি।

আটজন শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা বেশির ভাগই অত্র এলাকার। পাশাপাশি বাড়ী হওয়ায় বাড়ী হতেই বেশিরভাগ সময় তারা ক্লাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, মতিন স্যার প্রায় দিনই আওয়ামী লীগের বিপক্ষে জামায়াত বিএপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। জামায়াত বিএনপি’র নেতাদের নিয়ে প্রায়দিন বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ঘন্টার পন ঘন্টা সরকার বিরোধী সভা করেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তার কোন বিষয়েই বাধা প্রদান করার সাহস পাইনা। কেউ কোন বাধা নিষেধ করতে চাইলেও তার বিভিন্ন হুমকীর কারনে ভয়ে আমরা মুখ বন্ধ রাখি।

dimla-girls-schoolএ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের মাথার ওপড়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি না থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক। আমি বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেষ দিয়েছি। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি না থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, আমি প্রতিমাসে বিদ্যালয়গুলি পরিদর্শন করি। ছবি না থাকার বিষয়টি লক্ষ করিনি। তবে অনুপস্থিতের বিষয়টি জেনেছি। প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সহ অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষি শিক্ষকদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহননের প্রক্রিয়া চলছে।

অপর দিকে বিশ্বস্ত একটি সুত্র জানায়, ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব প্রধান শিক্ষরকর নিকট মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার পায়তারা করছে। এদিকে বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শিক্ষক সংকট থাকার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।