নয়া সিইসি পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন যারা

৬:১৪ অপরাহ্ন | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – কে হচ্ছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদা (কে এম নুরুল হুদা) এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দিতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত সার্চ কমিটি।

৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক ক্যাডার কে এম নুরুল হুদা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। এছাড়া ফরিদপুর জেলার প্রশাসক ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির কাছে চূড়ান্ত তালিকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নামও নির্দিষ্ট করে প্রস্তাব করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিইসি হিসেবে সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদার নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

তবে এরই মধ্যে গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে রয়েছেন মনজুর হোসেন। ব্যক্তি হিসেবে মিষ্টভাষী ও সদালাপী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে নেত্রকোণা জেলার প্রশাসক ছিলেন তিনি। ছিলেন ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা ডেসার সদস্য। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। পরে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার সচিব হন। এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, কৃষি মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেন। শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে অবসরে যান মনজুর হোসেন। এখন তিনি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের পরিবারের সদস্য মনজুর হোসেনের ভাই মালিক খসরু ৭৩ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি অবসর নেন।

hote paren cec

নূর মোহাম্মদ। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বা আইজিপি। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। ওই সরকারের আমলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নেতা বাংলা ভাই ও শায়েখ আবদুর রহমান যখন দেশের উত্তরাঞ্চলে দোর্দ- প্রতাপের সঙ্গে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তখন নূর মোহাম্মদ তখন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আইজিপি হন নূর মোহাম্মদ। আইজিপি থেকে অবসরে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে যুব ও ক্রীড়া সচিব পদে নিয়োগ পান। পরে তাকে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বিএনপির তালিকায় আছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই অর্থনীতিবিদ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিয়োগ বরাবরই সরকারের ইচ্ছেয় হয়ে থাকে এবং সরকারের নীতি ও আদর্শেও প্রতি অনুগতরাই এই পদে নিয়োগ পান বলে ধারণা কার হয়। এছাড়া তিনি পল্লী ক্ষুদ্রঋণ অর্থায়নকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আসাফ উদ-দ্দৌলাহ। তার নামও বিএনপির তালিকায় আছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। অবসরের পর রাজনীতিতে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্যও ছিলেন। পরে ফরিদপুর সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। তবে তাকে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়। পরে তিনি ওই পদ ছেড়ে দেন এবং আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপি ঘরনার সংগঠনের নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে থাকেন। গত কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচকদের একজন আসাফ উদ্দৌলাহ। ফরিদপুরে তার পরিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধী বলে পরিচিত।

শাহদীন মালিক। আইনজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এই বিশেষজ্ঞ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি ওই সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ছিলেন। ওই সময় যারা দুই নেত্রীকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়াসহ বিরাজনীতিকরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের সঙ্গেও শাহদীন মালিকের সখ্য ছিল। শাহদীন মালিকও আওয়ামী লীগের সমালোচকদের একজন। তার পরিবারও আওয়ামী লীগবিরোধী হিসেবে পরিচিত। তার ভাই মোহাম্মদ জহির বিএনপির ঘরাণার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে বিএনপি থেকে প্রার্থী করার ব্যাপারে জোর গুঞ্জন ছিল।

তবে সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে নামের তালিকা জমা দেয়ার আগে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করবে না।

রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে পরে তা জানানো হতে পারে। তালিকা দেয়ার সময় রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে বিশিষ্ট নাগরিকদের সুপারিশের একটি সারসংক্ষেপও দেয়া হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সিইসিসহ অন্য কমিশনারদের নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।