• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক হত্যা : মীরুর রিমান্ড আবেদন শাহজাদপুর আদালতে


সময়ের কণ্ঠস্বর – সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মীরুকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ বেষ্টনীতে তাকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এসময় বিচারক মোরশেদ আলম তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীন আলম জানান, নিয়ম অনুযায়ী আসামিকে নিকটবর্তী আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে শাহজাদপুর আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এর আগে, রবিবার রাত ১০ টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুর থেকেই তিনি নিজের ব্যক্তিগত সব মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিক শিমুল হত্যায় যুক্ত থাকার কারণে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকেও মিরুকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বহুল আলোচিত সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসমি শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুকে রবিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার শ্যামলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়র মিরুকে ঢাকা মহানগর পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারের অনুরোধে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) শাখার একটি দল ও সিরাজগঞ্জ পুলিশের একটি দল যৌথভাবে রাজধানীর শ্যামলী অভিযান চালিয়ে মেয়র মিরুকে কিছুক্ষণ আগে গ্রেপ্তার করে। ওই যৌথ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্সপেক্টর দীপক দাস।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণের উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ সাংবাদিকদের জানান, মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মেয়রের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে রাজধানীর শ্যামলী মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে চড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।

গ্রেপ্তারের পরপরই মেয়র মীরুকে সিরাজগঞ্জ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই তাকে সিরাজগঞ্জে নিয়ে আসা হয়।

miru-meyorপ্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুরের পৌর মেয়র হালিমুল হকের ছোট ভাই পিন্টু পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কান্দাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বিজয় মাহমুদকে (১৮) বেদম মারধর করেন। বিজয় স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমানের অনুসারী। বিজয়কে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থনে মহল্লার লোকজন ও আওয়ামী লীগের একাংশ এবং কলেজের ছাত্ররা এক জোট হয়ে বেলা তিনটার দিকে মেয়রের বাড়িতে হামলা চালায়।

এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় গুলি ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যাওয়া সাংবাদিক আবদুল হাকিম মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবার ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম শুক্রবার শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ নিয়ে মেয়র মিরুসহ ৭জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর পুলিশ পৌর মেয়রের লাইসেন্স করা শটগান জব্দ করে ও তার দুই ভাইকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে মেয়র মিরু পলাতক ছিলেন।

◷ ৬:১৬ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ