রশীদের আত্মহত্যা হোক পরিবার ছেড়ে হাজার মাইল দূরে থাকা লাখো প্রবাসীর জন্য চুড়ান্ত সতর্কবার্তা !

৮:০১ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৭ অকালমৃত্যু প্রতিদিন, আলোচিত, প্রবাসের কথা, স্পট লাইট

টেকনাফ প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

পরিবারের সুখ ফেরাতে নিজের দেশ ছেড়ে হাজারো মাইল দূরে প্রবাসে গিয়েছিলেন কক্সবাজারের টেকনাফে আব্দুর রশিদ (৩৪) । সংসারে বাবা-মা দুটি অবুঝ সন্তান আর প্রিয়তমা স্ত্রীকে রেখে দুরপরবাসে হাজারো কস্টে কিছু টাকা জমাবার  স্বপ্ন দেখতেন রশিদ। ভেবেছিলেন দেশে ফিরে সেই টাকা দিয়ে ব্যবাসা-বানিজ্য করে হাঁসি ফোটাবেন অভাবের সংসারে, নিজেও সুখে থাকবেন পরিবারকে নিয়ে।

তবে রশিদের সেই স্বপ্নে গ্রহন লেগেছিলো আগেই। ভয়াবহ সামাজিক ব্যধি পরকীয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে দুই সন্তানের মা সানজিদার । প্রবাসে থাকার সময় প্রথমে প্রতিবেশীদের কাছে নিজের বন্ধুর সাথে স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জেনে রশীদের বিশ্বাস ভেঙেছিলো আগেই , তবে চতুরতার সাথে দুই সন্তানের দোহাই দিয়ে বেশকয়েকবার সেই বিশ্বাসে জোড়া লাগায় চতুর স্ত্রী সানজিদা।

অবশেষে নির্মম সত্যি প্রকাশের পর  সব বিশ্বাসের ভিত ভেঙ্গে যায় রশীদের। স্ত্রীর পরকীয়ার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মোবাইলে। এমন অবস্থায় দুরপরবাস থেকে ছুটে আসেন সংসার বাঁচাতে, সরকম চেষ্টাই করেছিলেন তিনি, কিন্তু পারেননি ভয়বহ পরকীয়ার ছোবল থেকে সংসার বাঁচাতে। অবশেষে লজ্জায়, অপমানে ভয়াবহ এক ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়ে নিজের জীবনের ইতি টানলেন অসহায় এই প্রবাসী।

কক্সবাজারের টেকনাফে আব্দুর রশিদ (৩৪) নামে মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সে পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকার হাফেজ ড্রাইভারের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক। রবিবার রাতে বাড়ির পাশের জনৈক ছৈয়দ মাষ্টারের বসত ভিটায় একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

আলাপকালে স্থানীয় সুত্র ও রশীদের পরিবার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানায় , আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিল। এ ফাঁকে রশিদের বন্ধু পুরান পল্লান পাড়া এলাকার ইউছুপের সাথে স্ত্রী সনজিদার মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই জের ধরে প্রবাস থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ টানাপোড়ন চলে। এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর আবু হারেছ শালিসী বৈঠক করে বিষয়টির পরিসমাপ্তি ঘটান। পরবর্তীতে স্ত্রী সনজিদা বেগম স্বামীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে মাস তিনেক আগে তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। দেশে ফিরে আসার পর সে স্ত্রীর সাথে হ্নীলা জাদিমুড়া এলাকায় শ্বাশুড় বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

এরই ফাঁকে এক ব্যক্তির মোবাইলে আপত্তিকর ছবি দেখা নিয়ে আবারো কলহ হলে স্ত্রী সনজিদা স্বামীকে ফেলে চট্টগ্রাম চলে যায়। এতে স্বামী আব্দুর রশিদ ক্ষোভ ও অভিমানে ভেঙ্গে পড়ে গত শনিবারে বিপূল পরিমাণ ঘুমের ঔষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়।

পরিবার জানিয়েছে, এরপর স্ত্রী সন্তানদের কথা মনে আসায় নিরাশ হয়ে  সর্বশেষ রবিবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন রশিদ ।

somoyerkonthosor-exclusive

কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই পুনরায় স্ত্রীর সাথে কলহে জড়িয়ে তিনি মাস খানেক আগে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। অপরদিকে তার স্ত্রী চলে যায় চট্টগ্রামে। গত শনিবার মানসিক অস্থিরতায় সে বিপুল পরিমাণ ঘুমের ঔষুধ সেবন করলে স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি টীম ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে টেকনাফ স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উদ্ধার লাশটির সুরুতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।