সবার সহযোগিতা চেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার

৯:০২ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদাকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সোমবার রাতে সিইসিসহ অপর চার কমিশনারের নিয়োগ অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে গঠিত সার্চ কমিটির দেয়া তালিকা অনুযায়ী এ নিয়োগ দেন তিনি।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে নবনিযুক্ত সিইসিসহ অপর চার কমিশনারের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

ইসির অপর চার কমিশনার হলেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা দায়িত্ব পাবার পর এক প্রতিক্রিয়ায়  বলেছেন,তিনি বলেন, এটা অনেক বড় দায়িত্ব ও ভালো দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা চাই। “রাষ্ট্রপতি আমাকে সাংবিধানিক এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ায় কৃতজ্ঞ। সাংবিধানিক দায়িত্বটি আমি নিরপেক্ষভাবে সংবিধান ও আইন মেনে পালন করবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আগে দায়িত্ব নিই; তারপর সবার সঙ্গে বসবো। সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আপনাদের সঙ্গেও কথা বলবো।”

সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পরবর্তী সিইসি ও কমিশনারদের নিয়োগ অনুমোদন করেন। রাত সাড়ে ১০টায় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

একনজরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা

সাবেক সচিব খান মোহাম্মদ নুরুল হুদা (কে এম নুরুল হুদা)র বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেলা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জানিয়েছে, তুখোড় যোদ্ধা ছিলেন কে এম নুরুল হুদা। যুদ্ধকালীন পুরো বরিশাল অঞ্চলেই তার আধিপত্য ছিল। তাকে সেসময়  সবাই ক্যাপ্টেন হুদা নামে ডাকতেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুত্রে আরও জানা যায়, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন কে এম নুরুল হুদা।  সেসময় দেশ মাতৃকার ডাকে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে  প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি দেন তিনি।

প্রশিক্ষণ শেষে অক্টোবর মাসে সুন্দরবন ও বাগেরহাটের শরণখোলা হয়ে পটুয়াখালী এসে ৯নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নুরুল হুদা। যুদ্ধক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি সফল অপারেশনের পর তাকে পটুয়াখালীর একাংশের প্রশাসনিক কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এরপর গলাচিপার পানপট্টিতে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন । সেখানে বিরতিহীন ১৩ ঘণ্টা যুদ্ধ করে সহস্রাধিক পাকসেনাকে হটিয়ে মুক্ত করা হয় পানপট্টি এলাকা।

পরবর্তী সময়ে পটুয়াখালী জেলা মুক্ত করার ক্ষেত্রে নুরুল হুদা ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নে কে এম নুরুল হুদার গ্রামের বাড়ি ছিল মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ওই ক্যাম্পে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পাঠানো হতো। একাধিকবার নুরুল হুদার বাড়িতে পাকবাহিনী হামলাও করে।

পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল বারেক বলেন, নুরুল হুদাকে মেরে ফেলার জন্য পাকসেনারা মরিয়া হয়ে উঠেছিল।নুরুল হুদার নেতৃত্বে একটি বাহিনী ছিল। সেই বাহিনী পানপট্টি, শরণখোলা, কলাপাড়া ও গলাচিপায় একাধিক সম্মুখযুদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন গোটা বরিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্ব বেশ দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন কে এম নুরুল হুদা। কেবল সম্মুখযুদ্ধে নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সরবরাহ ও সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তার অসাধারণ ভূমিকা ছিল। সবমিলিয়ে এক চৌকস যোদ্ধা ছিলেন কে এম নুরুল হুদা।

কে এম নুরুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলার মুক্তিযোদ্ধারা।

একনজরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা কর্মজীবন

১৯৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক ক্যাডার কে এম নুরুল হুদা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। এছাড়া জেলার প্রশাসক হিসেবে ছিলেন ফরিদপুর। দীর্ঘদিন ওএসডি থাকার পর ২০০৬ সালে সচিব হিসেবে অবসরে যান তিনি।

CEC-Ellection-Commision

গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্টিবিউশন কোম্পানির চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর জ্যামকন গ্রুপের পরিচালক হিসেবে তিনি কিছুদিন কাজ করেছেন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভলপমেন্ট ফান্ডের(বিএমবিএফ) ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

সর্বশেষ সোমবার  ৬ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখ রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পরবর্তী সিইসি ও কমিশনারদের নিয়োগ অনুমোদন করেন সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হলেন কে এম নুরুল হুদা। এদিন রাত সাড়ে ১০টায় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।