এবার ‘তন্ত্রমন্ত্রের চিকিৎসা’র নামে তিন লম্পট কবিরাজের ফাঁদে পড়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী!

১১:১৬ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

আবারো কবিরাজি চিকিৎসার নামে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা

অনেক সময় এমন সংবাদ প্রকাশের নেতিবাচক দিক দেখিয়ে কিছু মানুষ ‘অজ্ঞাত অপরাধে’ তুলো-ধুনো করেন সংবাদ মাধ্যমের ! এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। গনমধ্যম কর্মী হিসেবে আমাদের দায় সমাজকে সচেতন করার। একজনের ক্ষতির এমন ঘটনা থেকে অন্য সবার শিক্ষা নেবার অথবা সতর্কতা ছড়িয়ে দেবার চেষ্টাই থাকে আমাদের । তবুও দুঃখজনকভাবে কদিন পরপরই এমন ঘটনা দেশের গণমাধ্যমে শিরোনাম হলেও নিত্য-নতুন কায়দায় একশ্রেনীর ভন্ড লম্পট তাদের পশু মনোবৃত্তিতে চালিয়ে আসছেন এসব অপকর্ম।

অপরাধীরা অপরাধ করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু কুসংস্কার আর অসচেতনতায় ডুবে থেকে এসব অপরাধীর ফাঁদে অনাকাংখিত এমন অপরাধ সংঘটিত হবার পেছনে আমাদের দায় কী কিছু কম ?

আসুন সবাই সচেতনতা বাড়াই সবার মাঝে…। নিউজ রুম এডিট, সময়ের কণ্ঠস্বর

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

এবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নে এমন ‘অভিনব কৌশলে’ এক অষ্টম শ্রেনী পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে  তাদেরই বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসার নামে গনধর্ষণ করেছে তিন লম্পট ।

কথিত তিন কবিরাজের বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকার আবাল-বৃদ্ধ- বনিতা। সোমবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার চর পুমদী আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ঘটনার শিকার ঐ স্কুলছাত্রীর পারিবারিক সুত্র বলছে,  গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ছাত্রীর চাচা তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের মুকসুদপুর গ্রাম থেকে আজিজুল হক, রুবেল মুন্সী ও সাইফুল ইসলাম নামের তিন কবিরাজকে বাড়িতে ডেকে আনেন।

বাড়িতে এসে রোগীকে ‘পরীক্ষা নিরীক্ষা’ করে কবিরাজরা জানান,  রোগীর উপরে খারাপ আত্মার দৃষ্টি আছে, এই ভয়াবহ সমস্যা সমাধানের জন্য একজন কুমারী মেয়ে প্রয়োজন। সেই কুমারী মেয়ের ‘পুজা’ দিলেই পালাবে অশুভ শক্তি!

কবিরাজের কথামতো তিনি পাশের বাড়ি থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া তাঁর ভাতিজিকে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে কবিরাজি করার ভান করে ওই মেয়েকে ঘরে রেখে অন্যদের বাইরে বের করে দেন তিন কবিরাজ।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী,  তিন কবিরাজ অন্ধকার ঘরে মেয়েটিকে প্রথমে কোনভাবে অজ্ঞান করে। পরে একে একে চালায় পাশবিকতা। পরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ঘর থেকে বের হবার সময় ঐ কবিরাজেরা জানায়, মন্ত্রের ফলে আপাতত জ্ঞান হারিয়েছে ‘কুমারী’!  ঘন্টাখানেকের মধ্যে কুমারীর জ্ঞান ফিরবে। এরপর কৌশলে পরে আসবার কথা বলে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান ওই তিন কবিরাজ।

এর কিছুক্ষন পরেই  ঐ মেয়ের জ্ঞান ফিরলে ভয়ার্ত চোখে ঐ কিশোরী জানায় তার উপরে নির্যাতনের কথা। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার রাতে এ ঘটনায় ঐ  স্কুলছাত্রীর মা কবিরাজ আজিজুল হক, রুবেল মুন্সী ও সাইফুল ইসলামকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

আজ মঙ্গলবার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাসদ-ই আফরোজা পারভীন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছেন, ‘  রক্তক্ষরনের ফলে মেয়েটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, এছাড়াও প্রচুর ভয় থেকে মানসিক চাপেও রয়েছে মেয়েটি তবে বর্তমানে ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলেও জানান এই চিকিৎসক ।

ওই ছাত্রীর ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির দাবিতে সোমবার  দুপুরে  হোসেনপুর উপজেলার চর পুমদী আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ মানববন্ধন করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পুমদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন ফরিদ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন, জেলা জাকের পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু বাক্কার সিদ্দিক, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কাঞ্চন মিয়া, ফারুক মিয়া, জহিরুল ইসলাম, মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আমিনুল ইসলাম। বক্তারা ধর্ষণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Fraod-man-rape-girl

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে  আসামিদের ধরে দৃস্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে চাই। তবে এমন ঘটনার জন্য সাধারন মানুষের অসচেতনতাও দায়ী বলে মন্তব্য করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, অপরাধীরা ফাঁদ পেতে থাকে সারাক্ষন তবে আমাদের মধ্যে যদি কুসংস্কার দুর হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় তাহলেই শুধু এমন অপরাধ কমে আসবে ।