গৌরনদীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

◷ ৭:০৪ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

পার্থ হালদার, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ দাবিকৃত যৌতুকের ১ লাখ টাকা না পেয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল গ্রামের গৃহবধু এক সন্তানে জননী রূপালী খানমকে (২২) কে অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাষান্ড স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনে নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহবধু রূপালী গৌরনদী উপজেলা স্বাস্ত্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এ ব্যাপারে নির্যাতিতার বাবা উপজেলার বার্থী গ্রামের ইদ্রিস সরদার বাদি হয়ে রূপালীর স্বামী, শ্বশুড়, শাশুড়িসহ ৫ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

11329807_885000064900276_3746111429427509552_n-620x330উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রূপালী খানম অভিযোগ করেন, গত তিন বছর পূর্র্বে উপজেলার কটকস্থল গ্রামের করমালী ফকিরের ছেলে রেজাউল ফকিরের সাথে তার সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার বাবা স্বামী রেজাউল (২৮)কে নসিমন খরিদের জন্য নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ১ ভরি স্বর্নালংকার যৌতুক দেয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ^শুর বাড়ির লোকজন আরো এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

দাবিকৃত যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করায় প্রায়ই ম্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনে রূপালীকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতো। দাবিকৃত যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনে গত এক বছর পূর্বে তাকে (রূপালীকে) অমানুষিক নিযার্তন করে তার বাবার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গত ৯ মাস পূর্বে রেজাউল দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তানিয়া বেগম (২০)কে বিয়ে করেন।

স্বামী ও শ^শুর বাড়ির খোঁজ খবর নিতে আড়াই বছরের ছেলে ইব্রাহিম ফকিরকে সাথে নিয়ে সে (রূপালী) সোমবার দুপুরে তার স্বামীর বাড়িতে যায়। এ সময় দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে শাশুড়ি মালেকা বেগম, সতীন তানিয়া বেগম, তানিয়ার মা রাবেয়া বেগম তাকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় নির্যাতনকারীরা তার গলার ও কানের স্বর্নালংকার ছিড়ে নেয় বলে রূপালী অভিযোগ করেন। তার ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাকে (রূপালীকে) উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন জানান, এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওসি জানান।

গৌরনদীতে যাত্রীবাহী দুই বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত ১, আহত ১০

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সোমবার রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইল্লা দাখিল মাদ্রাসার কাছে যাত্রীবাহী সাকুরা বাস ও চাকলাদার বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ যাত্রী নিহত ও চালকসহ ১০ যাত্রী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ২ বাসের ৫ যাত্রীকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চাকলাদার বাসের নিহত যাত্রী হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার গ্রামের মৃত নারায়ন চক্রবর্তীর ছেলে সুনীল চক্রবর্তী (৬৫)। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দেড়ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধা ছিল। এ বিষয়টি গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ইল্লা দাখিল মাদ্রাসা এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেনাপোলগামী চাকলাদার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে ওই সাকুরা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে উভয় বাসের চালকসহ ১১ যাত্রী আহত হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় বাসের সম্মুখ ভাগ দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেডের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার ষ্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে উভয় বাসের গুরুতর আহত ৬ যাত্রীকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চাকলাদার বাসের যাত্রী সুনীল চক্রবর্তীকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় উভয় বাসের যাত্রী উত্তম কর্মকার, লাবনী, বিনা বেগম, রুমান, গফুরসহ ৫ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ারকর্মী ও স্থানীয়রা আপ্রাণ চেষ্টা করে মহাসড়কের ওপর থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ২টি সরিয়ে ফেললে রাত ১২টার দিকে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।