নব গঠিত ইসি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক অবস্থানে বিএনপি

৭:১৪ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – নব গঠিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। জানা যাচ্ছে, তাদের প্রধান আপত্তি সিইসি নুরুল হুদাকে নিয়েই। এরই মধ্যে দু-একজন নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে সিইসি সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

তবে মঙ্গলবার রাতে ২০-দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে শোনা যাচ্ছে। সকালে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এ তথ্যই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ইসি নিয়ে বিএনপির নেতিবাচক মনোভাব থাকলে এমন কোনো প্রতিক্রিয়া দিবে না যাতে ভবিষ্যতে তাদের জন্যই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে খুবই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। নেতাদেরও দলীয় হাইকমান্ড থেকে এমনই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র নেতা আরটিএনএনকে জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠেকে নতুন ইসি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াসহ প্রায় সব নেতাই নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে দুই একজন সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে এ ব্যাপারে কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন।

bnp

আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে হতাশ বিএনপি। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে নিয়ে তাদের প্রধান আপত্তি।

তিনি ‘জনতার মঞ্চের’ লোক এমন অভিযোগ এনে শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলতে পারে দলটি। তবে এককভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে জোটের শরিকদেরও মতামত নিতে চায় বিএনপি। এজন্যই মঙ্গলবার রাতে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বসছেন বেগম খালেদা জিয়া।

তবে নতুন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করার বিরোধিতাও করছেন দলের সিনিয়র নেতাদের একটি বড় অংশ। তাদের বক্তব্য হলো- সবকিছু প্রত্যাখ্যান করে লাভ কী। যেহেতু আগামী নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে।

বিএনপি মনে করে মাহবুব তালুকদার ছাড়া বাকি সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে কমিশনকে নিরপেক্ষ বলার সুযোগ নেই।

এছাড়া নতুন সিইসি নুরুল হুদা ‘জনতার মঞ্চের’ লোক। এজন্য চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল তাকে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে অন্য তিন কমিশনারও আওয়ামী লীগ সমর্থিত। বিএনপির দেয়া তালিকা থেকে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই নুরুল হুদার নেতৃত্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করতে পারছে না দলটি এমন মনোভবও পোষণ করছে কোনো কোনো নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এদের কেউই বিএনপির কাছে পরিচিত মুখ নন। সুতরাং একতরফাভাবে কমিশন মেনে নেয়া হবে না। বিএনপি এই ইসিকে প্রত্যাখ্যান করবে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেও জানানো হবে। এর প্রতিবাদে কর্মসূচিও আসতে পারে।’

এরই মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনতার মঞ্চের লোক। বাকিরাও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এ অবস্থায় এদের কাছ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘এটা প্রত্যাশিত ছিল না। চাইলে শতাধিক নাম থেকে আরো নিরপেক্ষ লোককে নিয়োগ দিতে পারতেন রাষ্ট্রপতি।’

দুদু বলেন, ‘এদের সার্বিক পরিচয় জেনে মন্তব্য করলে ভালো হবে। তবে নিশ্চয়ই দল থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’

এদিকে নতুন ইসি নিয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাতে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বসছেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০-দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই বিএনপি প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে জানা যাচ্ছে।