ডিমলায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম

২:১৩ পূর্বাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

gf


মাজহারুল ইসলাম লিটন,ডিমলা (নীলফামারী)ঃ

নীলফামারীর ডিমলা পুর্ব ছাতনাই আদর্শ বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুনির্তীর অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক বিএনপির নেতা হওয়ার সুবাধে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না টাঙ্গানের অভিযোগ পাওয়া যায়। এবং স্বরেজমিনে তার প্রমান মেলে এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন কাজের অযৃহাতে বিদ্যালয় উপস্থিত থাকেন।

বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করে তদন্ত রিপোর্ট অনৃযায়ী ব্যবস্থা গস্খহন করতে বলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় বর্তমান পুর্ব ছাতনাই বিএনপি সভাপতি আব্দুল মতিন পূর্বছাতনাই আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপিত করেন।  উক্ত প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে এমপিও ভুক্ত হয়েছেন ৯জন। জাল কাগজ তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের শ্যালক বেলায়েত হোসেনকে শরীর চর্চা শিক্ষক বানিয়ে সরকারী বতেন উত্তোলন করাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সহকারী  শিক্ষক (ধর্ম) লোকমান হোসেন ও সহকারী শিক্ষক সাহের বানু জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে এমপিও ভুক্তি করেছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে উক্ত ২জন শিক্ষকের এমপিও হলেও জাল কাগজের কারনে সে সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম এমপিও বাতিলের সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম রংপুর শিক্ষা অফিসে বদলী হলে সেপ্টেম্বর/১৪ সালে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন উক্ত শিক্ষকের এমপিও টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন এমন অভিযোগ করেন (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক।

শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছে বর্তমান ক্ষমতায় অধিষ্ট শিক্ষা বান্ধব সরকারের অর্থ ও বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম প্রধান শিক্ষক নিজেই আত্বসাধ করছে। গত শনিবার বিদ্যালয়ে কোন প্রকার ছুটির আবেদন ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন ৮জন শিক্ষক। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩শ ৫০ জন। পূর্বছাতাই ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের মাথার উপরে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু কিংবা সরকার দলীয় রাষ্ট্র প্রধানের ছবি নেই।

সরজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চলাকালীন সময় দুপুর ১২ টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ ৮জন সহকারী শিক্ষক অনুপস্থিত। প্রধান শিক্ষক বিএনপি সংগঠনের ইউনিয়ন সভাপতি মর্মে তার মাথার উপড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি তিনি লাগাবেন না বলে সাব জানিয়ে দেন।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, আমি একটি নতুন টেবিল তৈরী করতে দিয়েছি টেবিলটি তৈরী হলেই ছবি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অথচ আওয়ামী সরকার ৮ বছরে পা রাখলেও তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি লাগাননি। শিক্ষক এমপিও ভুক্তির বিষয়টি সঠিক নিয়মে হয়েছে। কেন সহকারী শিক্ষক সাহের বানু ও লোকমান হোসেনের বিল ৯মাস বন্ধ থাকার পর প্রদান করা হলো এর সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি।

৮ জন শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা বেশির ভাগই অত্র এলাকার। পাশাপাশি বাড়ী হওয়ায় বাড়ী হতেই বেশিরভাগ সময় তারা ক্লাশ করেন। অপর দিকে বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন রত ৩শ ৫০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান নিতে না পারায়। তাদের পড়ালেখার চরম ব্যাঘাত ঘটছে।

নাম প্রকাশ্যে না করার শর্তে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, মতিন স্যার প্রায় দিনই আওয়ামীলীগের বিপক্ষে জামায়াত বিএপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। জামায়াত বিএনপি’র নেতাদের নিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সরকার বিরোধী সভা করেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি না থাকলেও। উপজেলা প্রশাসন  কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা না করার বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।