সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চাটমোহর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতি কর্তৃক কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

১:৫৩ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ Breaking News, দেশের খবর, রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার নামে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধির কাছে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এসব প্রতিনিধির কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে চিঠি দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আর্থিক সহায়তার নামে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা, যা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। শুধু এবারই নয়, এর আগেও ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা, বার্ষিক বনভোজন সহ বিভিন্ন অজুহাতে একইভাবে চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, গত ১ ডিসেম্বর চাটমোহর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম (রফিক) ও সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হেলাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উপজেলায় কর্মরত ছোট বড় সকল ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছে সমিতির বার্ষিক সাধারন সভার নামে আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়। এই চিঠি পাঠানোর দুই মাস পরে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সকল ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিকে নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদানের জন্য চুড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে আর্থিক সাহায্যের হার উল্লেখ না থাকলেও মৌখিক নির্দেশে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ প্রতিনিধিদের। এই চাঁদার হার সর্বনি¤œ ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। আর এই চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে প্রধান হিসেবে কাজ করছেন ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদক মো. আমিনুল হক।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপলক্ষ্য দেখিয়ে বারবার উপজেলায় কর্মরত ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেই চলেছেন। চাঁদা প্রদানে ব্যর্থ হলে কিংবা অপারগতা প্রকাশ করলে ঐ প্রতিনিধির কোম্পানীর ঔষধ বিক্রয় পৌর সদরের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বার্ষিক সাধারন সভা, বার্ষিক বনভোজন সহ বিভিন্ন অজুহাতে বছরে কয়েকবার এই ঔষধ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ যেন দেখার কেউ নেই, প্রতিবাদ কেউ নেই। অনেক কষ্টে অর্জিত প্রতিনিধিদের টাকা নিরবে ঔষধ সমিতিকে দিয়ে আসতে হয়।

chatmohor ousudh somiti

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি জানান, অনেক দুর থেকে চাটমোহরে চাকুরী করতে এসেছি। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চাটমোহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। এই সামান্য চাকুরী করে মাস শেষে সব খরচ কাভার করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এরপর এখানকার ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির নামে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার ফলে অনেক কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে হবে। এ টাকা আমাদের পকেট থেকে দিতে হয়। আমাদের কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কখনই এ খরচ বহন করে না।

তারা অভিযোগ করে জানান, এর আগেও সমিতি আমাদের বাধ্য করেছে তাদের টাকা দিতে। মাস শেষে টাকা না থাকায় আমাকে চুড়ান্তভাবে হুমকী সহকারে বলা হয়েছে। আমি তখন ভয়ে আমার ছোট বাচ্চা শিশুর জন্য দুধের কৌটা না কিনে অশ্রু সজল চোখে তাদের টাকা দিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারী চাটমোহর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে বনভোজনের নামে ভোজন বিলাশ করার উদ্দেশ্যে সুদূর কুয়াকাটা সহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক জায়গায় ভ্রমন করার উদ্দেশ্যে বের হবেন কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে এ কারণেই ১০ তারিখের মধ্যে চাঁদার টাকা দিতে কোম্পানীর প্রতিনিধিদের চাপ দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে জাইলে চাটমোহর উপজেলা ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম (রফিক) চাঁদা নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমরা বার্ষিক সাধারণ সভার জন্য তাদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য চেয়ে থাকি, তারাও দেন। তবে বার্ষিক সাধারণ সভার দিন এখনও ধার্য্য হয়নি। এমপি সাহেব ডেট দিলে সাধারণ সভা করা হবে। এখানে বার্ষিক বনভোজনের জন্য কোনো চাঁদা নেয়া হয়না, এ খরচ আমরা নিজেরাই বহন করে থাকি। তবে বার্ষিক সাধারণ সভার নামে ঔষদ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এভাবে চাঁদা নেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়ম কানুন নাই। তবে আমরা তাদের সাথে সম্পর্কের খাতিরে আর্থিক সাহায্য নিয়ে থাকি।