কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাংচুর: ৩ চিকিৎসক আহত, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

৩:৪৩ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি: রোগীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ ভাংচুর করার সংবাদ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ ৩ চিকিৎসককে মারধর করে আহত করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা রাত থেকেই জরুরী বিভাগসহ কমপ্লেক্সের সব ধরণের চিকিৎসাসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।

gajipur_newsপ্রত্যক্ষদর্শী ও আহত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদের ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪৫) হার্ডের সমস্যা জনিত কারণে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউটে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু রোগীর আত্মীয় কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া গ্রামের আক্তার মোল্লা, ফয়সাল, জুলহাস, মামুন, সুমনসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিজেদের সরকার দলীয় লোক পরিচয় দিয়ে রোগীকে ইনজেকশন দিতে বলে। কিন্তু ইনজেকশন দিলে রোগীর ক্ষতি হবে, এ কথা চিকিৎসকরা তাদের বুঝানোর চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হয়।

এ সময় রোগীর পক্ষের ওই সন্ত্রাসীরা উত্তেজিত হয়ে কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কম্পিউটার, টেবিল-চেয়ার ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদী ভাংচুর করে। এ সময় জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইনডোর চিকিৎসক আশীষ কুমার বণিক ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আব্দুল মোতালিবকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ঘটনার খবর পেয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরূপ কুমার দাস ছুটে এলে তাকেও তারা লাঞ্ছিত করে।

unnamedআবাসিক মেডিকেল অফিসার অরূপ কুমার দাস জানান, ঘটনার পর সোয়া ৮টায় কালীগঞ্জ থানায় ফোন করলেও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাত ৯টায়। অথচ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে থানার দূরত্ব মাত্র ৫শত গজ।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে জরুরী বিভাগসহ কমপ্লেক্সের সব ধরণের চিকিৎসাসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম জানান, রাত ৮টা থেকে তার ইমার্জেন্সি ডিউটি। পুলিশের গাড়ীর জন্য উপক্ষা করায় দেরী হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, অভিযোগ এখনো আসেনি, তবে খুব দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের আটক করা হবে।