পুলিশি জেরায় বিস্ফোরক তথ্য, ১১০টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এই যুবক!

৪:০১ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতের বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করে আকাঙ্ক্ষা শর্মা খুনের মামলায় অভিযুক্ত উদয়ন দাসকে ৮ দিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছে জেলা পুলিশ। আপাতত বাঁকুড়া সদর থানার হাজতই উদয়নের ঠিকানা। তাঁকে জেরা করে নিত্যনতুন তথ্য পাচ্ছে পুলিশ।

আপাতত গতকাল মঙ্গলবার থেকে জেরায় যে তথ্য পুলিশের সামনে এসেছে তাতে যা জানা যাচ্ছে তা এরকম:

image• উদয়ন ১১০টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল বলে সে নিজেই দাবি করেছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলির ‘ইউজার নেম’ ও ‘পাসওয়ার্ড’ একটা ডায়েরিতে লিখে রাখত সে। সেই ডায়েরির খোঁজ করছে পুলিশ।

• এর মধ্যে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থাকার সম্ভবনাই বেশি। এগুলি কাদের নামে খুলেছিল এবং তা থেকে আর কী কী দুষ্কর্ম উদয়ন করেছে, পুলিশি তদন্তে তাও উঠে আসবে।

• এই অ্যাকাউন্টগুলি খোলার চেষ্টা করছে পুলিশ।

• মার্কিন ক্রাইম ফিল্ম ‘ডেভিল’স নট’ দেখেই উদয়ন আকাঙ্ক্ষাকে খুনের ছক কষেছিল বলে সে পুলিশের কাছে দাবি করেছে।

এর মধ্যে উদয়ন কতটা সত্যি বলছে, কতটা মিথ্যে, তা যাচাই করে নিতে চাইছে পুলিশ। কারণ, পুলিশের ধারণা উদয়ন তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে। উদয়নের আদি বাড়ির খোঁজ মিলেছে হাওড়ার সালকিয়ায়। সেখানে তাঁর কাকা সংবাদমাধ্যমকে জানান,

• উদয়নকে তিনি শেষ দেখেছিলেন নব্বই দশকের গোড়ায়। উদয়নের ঠাকুমা মারা যাওয়ার পর থেকে উদয়নের বাবা, কাকাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। তারপর তার পরিবারের সঙ্গে কাকা রবীন্দ্রকুমার দাসের আর কোনও যোগাযোগ ছিল না।

• ২০০৯ সালে একবার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য দাদাকে যোগাযোগের চেষ্টা করেন রবীন্দ্রবাবু। কিন্তু সেবার ফোন না ধরে যে এসএমএস উদয়নের বাবা পাঠিয়েছিলেন, তাতে ব্যথিত হন তিনি।

• সেই এসএমএস-এ লেখা ছিল ‘আমি পার্টিতে আছি। আমাকে বিরক্ত করো না।’ সেই এসএমএস উদয়নের বাবা, না উদয়ন কে করেছিল তা নিয়ে এখন ধন্ধে পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ।

• রবীন্দ্রবাবু জানান, উদয়নের বাবা ভেল-এ ও মা ভোপালের স্ট্যাটিস্টিক্যাল দফতরে চাকরি করতেন।

• রবীন্দ্রবাবু চান আইন অনুযায়ী উদয়নের চরম শাস্তি হোক। তিনি বলেন, ‘ভাবতে পারছি না, এরকম নৃশংসভাবে কেউ নিজের মা-বাবাকে মারতে পারে।’ এবেলা